kalerkantho


ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

রোগীদের কেন জিম্মি করা হবে

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বগুড়া মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হঠাৎ গত বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতি পালন করেন। তাঁদের এই কর্মসূচির প্রভাব পড়েছে রংপুরে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন। বগুড়ার সহকর্মীদের কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা জানাতেই বোধ হয় তাঁরা এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এক রোগীর ছেলেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মারধর করেন বলে অভিযোগ। ঘটনা তদন্তের পর চার শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁদের ভিন্ন চারটি মেডিক্যাল কলেজে ইন্টার্নশিপ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই কর্মবিরতি শুরু করেন বগুড়ার শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। প্রশ্ন হচ্ছে, তাঁদের এ কর্মসূচি কতটা যৌক্তিক ও ন্যায়নিষ্ঠ? কারণ চিকিৎসা পেশা আর দশটি পেশার মতো নয়। সেবার মানসিকতা নিয়ে এ মহৎ পেশায় আসতে হয়। সেবার আদর্শ ধারণ করতে না পারলে এ পেশায় থাকার কোনো অর্থ হয় না।

পেশাগত জীবনে ঢোকার আগেই শিক্ষানবিশদের আচরণ যদি পেশা সম্পর্কে সাধারণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়, তাহলে তা সবার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে স্বাভাবিক যে সম্পর্ক তা তৈরি হবে না। চিকিৎসকদের সম্পর্কে ভুল ধারণা থাকলে ব্যাহত হবে চিকিৎসা। এর আগেও আমরা দেখেছি দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের আচরণে তাঁদের পূর্বসূরিরা বিব্রত হয়েছেন।

কর্মবিরতি কখনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। বিশেষ করে সেবা পেশায় তো নয়ই। যেকোনো ন্যায্য দাবি জানানোর অধিকার সব পেশার মানুষের আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের পদ্ধতি অন্তত কর্মবিরতি নয়। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রমাণ করছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে চলার মানসিকতা তাঁদের নেই। পেশাজীবন শুরুর আগেই আদেশ অগ্রাহ্য করার মানসিকতা তৈরি হয়ে গেলে তা পেশাকে যে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। বগুড়া ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা নিজেদের দাবি নিয়ে নিজ নিজ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় আসার চেষ্টা করতে পারতেন। কিন্তু সে পথে না গিয়ে তাঁরা সরাসরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।

আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা এমনিতেই নাজুক। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের নিয়ে সমন্বয় করেই দেশের মেডিক্যাল কলেজগুলোতে চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়। হঠাৎ কর্মবিরতি শুরু হলে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হবে—এটাই স্বাভাবিক। রোগীদের এভাবে জিম্মি করে দাবি আদায় করা অন্তত চিকিৎসকদের মানায় না। আমরা আশা করব, শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরবেন।  


মন্তব্য