kalerkantho


কিশোরদের অপরাধে টানা

গডফাদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কিশোরদের অপরাধে টানা

অনেক সমস্যার নগরী ঢাকার নতুন আতঙ্ক কিশোর অপরাধ। সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের হাতে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে।

যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বাড়ছে গ্যাংস্টার তথা সংঘবদ্ধ কিশোর অপরাধীদের সংঘের সংখ্যা। অভিভাবকরা বলছেন, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ার পরও এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা সন্তোষজনক নয়। আর পুলিশ বলছে, বখে যাওয়া কিশোরদের বেশির ভাগই বিত্তে-ক্ষমতায় প্রভাবশালী বলে অভিযোগ পাওয়ার পরও ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ-প্রশাসনের এই অসহায়ত্ব, এই নতজানু নীতি কোনো ভালো কথা নয়। নিন্দনীয় সেই সব অভিভাবকের ভূমিকাও, যাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং সন্তানের সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

গতকাল কালের কণ্ঠ’র এসংক্রান্ত শীর্ষ প্রতিবেদনে গ্যাংস্টারগুলোর গডফাদার হিসেবে মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কথাও এসেছে। ক্ষমতাসীন দলের জন্য এটি মোটেও সুখবর নয়। দায় কি পুলিশ-প্রশাসনও এড়াতে পারে? মাদকের সর্বগ্রাসী বিস্তার নিয়ে অনেক আগে থেকেই সতর্ক করে আসছে বিভিন্ন মহল। এর সঙ্গে পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের যোগসাজশ থাকার বিষয়টিও প্রমাণিত।

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের আখড়া গড়ে তোলা হয়েছে। আগে মূলত তরুণ ও যুবকরা মাদকসেবী ছিল, এখন কিশোররাও যুক্ত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন গ্যাংস্টারের সদস্যরা মাদক গ্রহণ করে অস্বাভাবিক আচরণ করছে, যা এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহানিরও কারণ হচ্ছে। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিলে মাদক এমন সহজলভ্য হতে পারত না, কিশোররাও এই অন্ধকার জগতে প্রলুব্ধ হতো না।

এলাকার রাজনৈতিক নেতা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কোথায় সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে নিজেরা লড়বেন, মানুষকে সংগঠিত করবেন, তাঁরা নিজেরাই কিশোরদের ধ্বংসের পথে টেনে আনছেন। মাদকের কাঁচা পয়সার লোভ থেকে তাঁরা জাতির সম্ভাবনাময় ছেলেদের ধ্বংস করছেন—এ অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য, দণ্ডনীয়। ক্ষমতাসীন দলের উচিত অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ওপরের মহল থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে, এবার আর কাউকে ধরতে অসুবিধা হবে না। টাকার জোরে পুলিশের দায়িত্ব পালনেও প্রভাব বিস্তার করতে পারার এই যে সংস্কৃতি, এ থেকে আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে। পুলিশ যদি তার দায়িত্ব পালনই করতে না পারে, সমাজ টিকবে কী করে? আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তো আরো অবনতি ঘটবে। অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। বখে যাওয়া সন্তানকে সংশোধনের প্রয়োজনেও তাঁদের তরফে সহযোগিতার মনোভাব থাকা উচিত। এর সঙ্গে সামাজিক দায়িত্ববোধেরও প্রশ্ন জড়িত। সন্তান অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়াবে, আর বাবা পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেবে না—এমনটা অনুচিত। দেশে মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও কিশোর সংশোধনাগারের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সময় থাকতে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে সন্তান যেমন নতুন জীবন পাবে, বাড়বে সামাজিক নিরাপত্তা।


মন্তব্য