kalerkantho


এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি

সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়িত না হওয়া যেন বাংলাদেশের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর সরকার যেসব উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে বছরের শেষে এসে দেখা যায়, তার বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয়নি।

কোনো কোনো উন্নয়নকাজ ধীরগতিতে এগোলেও অনেক কর্মসূচি শুরুই করা যায় না। সরকারের ভেতরে-বাইরে বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়। কিন্তু কাজের অগ্রগতি খুব একটা হয় না। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কেন বাস্তবায়িত হয় না, তার কারণও অজানা নয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবছরের প্রতিবেদনে এডিপি বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়। এবারের প্রতিবেদনেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নের প্রধান সমস্যাগুলো হচ্ছে, কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প নেওয়া, জমি অধিগ্রহণ করতে না পারা, প্রকল্পের বিপরীতে অপ্রতুল বরাদ্দ, ঘন ঘন পিডি বদল, তদারকির অভাব, বছরভিত্তিক অডিট নিষ্পত্তি না হওয়া ইত্যাদি। প্রতিবছরের প্রতিবেদনে সমস্যা দূর করার জন্য সুপারিশও থাকে। সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি অবগত হলেও সমস্যার সমাধান হয় না। অনেকে মনে করে, এডিপি বাস্তবায়িত না হওয়ার প্রধান কারণ রাজনৈতিক। এখানে নিয়োগ হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালকরা সব সময় প্রকল্প এলাকায় থাকেন না। অথচ প্রকল্প পরিচালকদের এলাকায় থাকতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত পিডিরা এ নির্দেশনা মানেন না। আবার এমন অনেক প্রকল্প পরিচালক পাওয়া যাবে, যাঁরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ। প্রকল্প বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে অর্থায়ন। যেকোনো প্রকল্প শুরুর সময় টাকার সংকট থাকে। এ সংকট মোকাবিলায় প্রিপারেটরি ফান্ড ঘোষণা করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। এডিপি বাস্তবায়নের এসব সমস্যা আগেও চিহ্নিত হয়েছে। এসব নিয়ে অনেক আলোচনাও হয়েছে; কিন্তু সমস্যা দূর হয়নি। দরপত্র আহ্বান, কার্যাদেশ দেওয়া থেকে শুরু করে আরো অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটে। অন্যদিকে বরাদ্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার অভাবও এডিপি বাস্তবায়িত না হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।  

প্রতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাজেট ঘোষণার সময় সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। এই আহ্বান এখন নিতান্ত আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে; যে কারণে অর্থবছরের শেষার্ধে এসে তড়িঘড়ি করতে দেখা যায়। তাতে ব্যয়ের হারই বাড়ে। উপেক্ষিত হয় কাজের মান।

দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়ে যেতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে গতি আনতে হবে। দূর করতে হবে সব সমস্যা। চিহ্নিত সমস্যাগুলো দূর করতে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক চেষ্টার বিকল্প নেই।


মন্তব্য