kalerkantho


গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন

এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যায়, মানুষ উপকৃত হয়। স্বাধীনতার চার দশক পরে এসে বাংলাদেশ সেই পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করছে।

মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে। বাংলাদেশের এই এগিয়ে চলার স্বীকৃতি পাওয়া যাচ্ছে বৈশ্বিক নানা ফোরাম থেকে। তারই ধারায় সর্বশেষ স্বীকৃতি এসেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবির কাছ থেকেও। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এডিবির ‘মিটিং এশিয়াস ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিডস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে বিনিয়োগের ফলে এ দেশের কৃষি উত্পাদন বেড়েছে, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে, তাদের আয় বেড়েছে, পরিবহন খরচ কমেছে এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শিল্প খাতে উত্পাদন বাড়ছে, যদিও প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ এখনো অনেক কম। নিরাপদ পানি প্রাপ্তি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে আরো দ্রুত এগোতে হবে। অন্যদিকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং একে টেকসই করতে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরো অনেক বিনিয়োগ করতে হবে। এডিবির এই স্বীকৃতি আমাদের যেমন উৎসাহিত করে, তেমনি করণীয় সম্পর্কে প্রতিবেদনে উল্লিখিত পরামর্শগুলো আমাদের উন্নয়নপ্রচেষ্টাকে আরো যৌক্তিক ও গতিশীল করবে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, কেবল পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জিডিপি ১ থেকে ২ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে।

শুধু জিডিপি নয়, পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের তিন কোটি মানুষের ভাগ্য বদলে দেবে বলেই মনে করেন অনেকে। পটুয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকের উত্পাদিত পণ্যও তখন উপযুক্ত দাম পাবে, তার আয় বেড়ে যাবে। বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত হলে শিল্পোদ্যোগ বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে, পরিবারের আয় বাড়বে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং এভাবেই দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হবে। সে জন্য পদ্মা সেতুর পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থাও এগিয়ে নিতে হবে। জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে উপকূলীয় জনজীবনকে রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি প্রস্তাবিত রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজও দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। এডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উত্পাদন বছরে ৬ শতাংশ হারে বাড়ছে। একই সঙ্গে চাহিদাও বাড়ছে এবং বাড়তেই থাকবে। তাই বিদ্যুৎ উত্পাদন বৃদ্ধিতে আরো জোর দিতে হবে। ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।

এককালে তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা পেয়েছিল যে বাংলাদেশ, সেই দেশই আজ বিশ্ববাসীর সমীহ অর্জন করেছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যে উন্নত দেশ হবে, সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। এ ক্ষেত্রে সরকার ও দেশবাসী সবারই সুবিবেচনা ও সম্মিলিত প্রয়াস থাকতে হবে।


মন্তব্য