kalerkantho


রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তালিকা

দ্রুত প্রত্যাবাসন করতে হবে

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রায় চার দশক ধরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের অনেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে গেছে।

অনেকে ভোটার তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দালাল ধরে অনেকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট বাগিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে জীবন ধারণের মতো কর্মসংস্থানের অভাবে তাদের অনেকে স্থানীয় দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে মিলে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষ তো বটেই, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তাদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আনসার ক্যাম্প থেকে কমান্ডারকে হত্যা করে অস্ত্র লুটের ঘটনাও ঘটেছে।

তাদের একটি বড় অংশ নিয়মিত অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব কারণে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার জেলায় পর্যটন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা সম্ভব হয়নি। ২০১৫ সালের জুন মাসে একটি শুমারি করা হলেও তার ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তার ওপর গত অক্টোবর থেকে আবার ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে আরেক দফা শুমারি। চলবে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত। সরকার ইতিমধ্যে নোয়াখালীর ঠেঙ্গারচরে তাদের অস্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, দ্রুত তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

এটা ঠিক, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বিভিন্ন সময়ে তারা এ দেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাদের অংশবিশেষকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনও করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে কোনো কোনো বৃহৎ শক্তির ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করা হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতায় মদদ দেওয়া হয়। জঙ্গি যোগাযোগ এবং ব্যাপক অর্থের লেনদেনও শুরু হয়ে যায়। এসব কারণে পরবর্তী সময়ে প্রত্যাবাসন কাজ গতি হারায়। রোহিঙ্গারা এখানে অনেকটা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে এবং মূল জনস্রোতে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বন থেকে কাঠ চুরি ও ইটভাটায় বিক্রি অনেকের পেশা হয়ে ওঠে। ফলে এলাকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দ্রুত ধ্বংস হতে থাকে। আশির দশকের শুরুতেও যে টেকনাফ গেম রিজার্ভে শতভাগ বনভূমি ছিল তা এখন ৫-৬ শতাংশে এসে ঠেকেছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, আর কত দিন বাংলাদেশ এই বোঝা বহনে সক্ষম হবে?

মিয়ানমারে যে ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদের সবাইকে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে নিয়ে নেওয়া এই সমস্যার সমাধান নয়। এতে মিয়ানমারের সাম্প্রদায়িক নীতিই লাভবান হবে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। সেখানেই মৌলিক মানবাধিকারসহ তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকেও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। তার আগে রোহিঙ্গাদের সঠিক তালিকা অবশ্যই আমাদের তৈরি করতে হবে।


মন্তব্য