kalerkantho


কথায় কথায় পরিবহন ধর্মঘট

জনভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



খুলনা বিভাগে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা পরিবহন ধর্মঘট অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুই দিনের এই ধর্মঘটে যাত্রীভোগান্তি চরমে উঠেছিল।

খুলনা বিভাগের পাশাপাশি ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরের পরিবহন শ্রমিকরাও ধর্মঘটে যোগ দেওয়ায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার পাশাপাশি এসব জেলায় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের মৃত্যুর দায়ে বাসচালকের যাবজ্জীবন সাজার প্রতিবাদে এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। দুই দিনের মাথায় ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে।

দেশের সড়ক-মহাসড়কে যে কোনো শৃঙ্খলা নেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। খুলনা বিভাগে পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও রাজশাহী ও নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। প্রশিক্ষণবিহীন চালকরাও যানবাহন নিয়ে চলে আসছে সড়ক-মহাসড়কে। ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল সম্পর্কে অজ্ঞ চালকদের কারণেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

সড়কে উঠেই অন্য যানবাহনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কিংবা দ্রুত আরেকটি ট্রিপ ধরার প্রবণতা থেকেও অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়েও অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। এমন কোনো দিন পাওয়া যাবে না, যেদিন সড়কে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে না। প্রাণহানির পাশাপাশি এসব দুর্ঘটনায় আহত হয় অসংখ্য মানুষ। দেশের মহাসড়কগুলোতে দ্রুতগতি ও শ্লথগতির যানবাহনের জন্য আলাদা কোনো লেন নেই। ফলে অপেক্ষাকৃত কম গতির গাাড়িও চলে মূল সড়কে। ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় অসংখ্য গাড়ি মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অদক্ষ চালকদের কারণেও ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? দেশের প্রচলিত আইন কি লাইসেন্সবিহীন, প্রশিক্ষণবিহীন চালকদের জন্য প্রযোজ্য হবে না?

মানিকগঞ্জের আদালত বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায়ের পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলেছে। আইনগতভাবেই পরিবহন শ্রমিকরা তা মোকাবিলা করে এসেছেন। বাকি প্রক্রিয়াও আইনগতভাবে করা যেতে পারে। নিম্ন আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু রায়ের প্রতিবাদে যাত্রীদের জিম্মি করা কেন? বাস মালিক-শ্রমিকদের বিষয়টি ভাবতে হবে। কথায় কথায় ধর্মঘট ডেকে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থেকে কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, তা ভেবে দেখতে হবে। ধর্মঘট নয়, বিকল্প কোনো উপায় নিশ্চয় খুঁজে বের করা যাবে।


মন্তব্য