kalerkantho


প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ

পদোন্নতিবঞ্চিতদের হতাশা দূর করুন

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ

জনপ্রশাসনের দক্ষতার ওপর একটি দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভরশীল। উন্নয়নের জন্য ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছা খুবই জরুরি।

কিন্তু সেই সদিচ্ছার বাস্তবায়ন মূলত জনপ্রশাসনকেই করতে হয়। জনপ্রশাসন যত বেশি দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টা তত বেশি গতি পাবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশে জনপ্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এখানে শিল্পোদ্যোগ বা ব্যবসা শুরুর সময় অস্বাভাবিক প্রকারে বিলম্বিত হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনুমোদন প্রক্রিয়াই শেষ হতে চায় না। বাজেট বাস্তবায়নেও রয়েছে অস্বাভাবিক ধীরগতি। রাষ্ট্রীয় সেবাগুলোর মান খুব নিম্ন পর্যায়ের। আন্তর্জাতিক বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন দীর্ঘদিন থেকেই আলোচিত হচ্ছে। প্রশাসনের এমন দুরবস্থার জন্য যেসব বিষয়কে দায়ী করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নিয়োগ-পদোন্নতিসহ সব ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক ও অন্যান্য বিবেচনা প্রাধান্য পাওয়া। এতে প্রশাসনে কাজের উদ্যম ও উৎসাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ে। প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পায়। সেই প্রশাসনকে দিয়ে যে ভালো কিছু করা যায় না তা সরকারকে উপলব্ধি করতে হবে।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে সম্প্রতি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। এতে বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে এবং তা উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে। এটা ঠিক যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আগেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। উন্নত দেশগুলোতেও এই নিয়ম বলবত আছে। কিন্তু প্রশ্ন তখনই ওঠে, যখন নিয়মিত পদোন্নতি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য ব্যাহত হয়। বিদ্যমান কাঠামোতে যোগ্য লোক থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ না দিয়ে বাইরের কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা বিদ্যমান জনবল কাঠামোর জন্য কখনো সুখকর হয় না। এর পরিমাণ অত্যধিক হলে তা প্রশাসনে ক্ষোভেরও কারণ হয়। এ ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যমূলক নীতি অবলম্বন করাই শ্রেয়। জানা যায়, প্রশাসনে ক্রমবর্ধমান হতাশার এই দিকটি বিবেচনা করেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কতিপয় সুপারিশসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেককে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অবসরের পর কর্মকর্তাদের চাকরির মেয়াদ বাড়ালে কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলে তা আগের ধাপের কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তাই তিনি অবসরান্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে নীতিমালা তৈরিরও তাগিদ দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনেও সেই নীতিমালা তৈরি না হওয়া দুঃখজনক।

আমরা আশা করি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিও এ ব্যাপারে তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা চাই, দেশে উন্নয়নের যে গতি সঞ্চারিত হয়েছে তাকে ধরে রাখতে এবং উত্তরোত্তর এগিয়ে নিতে ক্ষোভ-হতাশামুক্ত একটি দক্ষ ও উদ্যমী প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে।


মন্তব্য