kalerkantho

আতঙ্কের নাম সড়ক

শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যবস্থা নিন

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সড়ক দুর্ঘটনা আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোথাও সড়ক চলাচলে কোনো শৃঙ্খলা আছে বলে মনে হয় না। বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। চলছে অবৈধ যানবাহন। মূল্যবান প্রাণ যাচ্ছে সড়ক-মহাসড়কে। দেশের সড়কপথ যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। শনিবার ঢাকার রাজপথে মেডিক্যাল ছাত্রী সাদিয়ার জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। দেশের আট জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে আরো ১৩টি তাজ প্রাণ।

আমাদের সড়ক-মহাসড়কগুলোকে যেন ইচ্ছা করেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত করা হচ্ছে। এখানে কারো কোনো কর্তৃত্ব আছে বলে মনে হয় না।

কারো যেন কোনো দায়িত্বও নেই। মানা হয় না ট্রাফিক আইন। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন, গতিসীমা মেনে না চলার পাশাপাশি সড়ক পারাপারে পথচারীদেরও নিয়ম মেনে না চলার প্রবণতা আছে। মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল করছে। পুরো সড়কপথেই বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান। কিন্তু এসব দেখার যেন কেউ নেই। দেশে প্রতিবছর দুর্ঘটনায় ১৮ হাজারেরও বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। আহত হচ্ছে প্রায় সমানসংখ্যক মানুষ। অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হচ্ছে। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। জনবল কম নিয়ে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। দায়িত্ব পালনে তাদের আন্তরিকতাও প্রশ্নবিদ্ধ। বিভিন্ন গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য বাস-ট্রাক দায়ী হলেও এসব মৃত্যুদানবের গতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দেশের সড়কপথে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নেই। সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা বসানো সম্ভব হয়নি। গতিসীমা অতিক্রমকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সুযোগও নেই। ফলে রাস্তায় উঠেই চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের প্রবণতা। অনেক বাস-ট্রাকে কারসাজি করে নির্ধারিত আয়তনের চেয়ে বড় করে বডি তৈরি করা হয়। এসব অনিয়ম ঘটছে চোখের সামনে। সারা দেশের মতোই রাজধানীতেও চলাচল করছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। সেই সঙ্গে প্রশিক্ষণবিহীন, অদক্ষ চালক তো আছেই। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো গেলে দুর্ঘটনা অনেক কমে যেত। সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলে রক্ষা পেত অনেক প্রাণ। শনিবার রাজধানীতে দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি অটোরিকশাচালক পালিয়ে না গিয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে আহত সাদিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো তাঁর জীবন রক্ষা পেত।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিকল্প নেই। ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারে নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে। যানবাহনের মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি পথচারীদেরও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার কোনো বিকল্প নেই।


মন্তব্য