kalerkantho


মাংসের দাম বাড়ছেই

বাজার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিন

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাজারে যাতায়াত আছে এমন যে কেউ জানেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের ছলছুতার অভাব হয় না। কখনো অতিবৃষ্টি, কখনো অনাবৃষ্টি, কখনো চাঁদাবাজি, কখনো বা যানবাহনের ধর্মঘট—অজুহাতের অভাব নেই।

আর একবার দাম বাড়লে পরে তা আর কমতে চায় না। দিনকয়েক আগে মাংস ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে গিয়েছিলেন। তখন তাঁদের কোনো কোনো নেতা বলেছিলেন, ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি না থাকলে এবং বৈধভাবে গরু আমদানির সুযোগ থাকলে তাঁরা গরুর মাংস ৩০০ টাকার নিচে বিক্রি করতে পারবেন। প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ধর্মঘট উঠে গেলেও বাজারে গরুর মাংসের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এরপর কয়েক দিন যেতে না যেতেই খাসির মাংসের দামও বেড়ে গেছে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। মাংস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের সময় মুরগির দামও বেড়ে গিয়েছিল। ধর্মঘট উঠে যাওয়ার পর ব্রয়লারের দাম কিছুটা কমলেও কমেনি দেশি মুরগির দাম। বলা যায়, মাংসের বাজারে রীতিমতো অরাজকতা চলছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে মাংস হয়ে উঠেছে এক দুষ্প্রাপ্য বস্তু।

ধর্মঘটের সময় মাংস ব্যবসায়ীরা বৈধভাবে গরু আমদানির দাবি জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশে গরু আসে মূলত ভারত থেকে। সেখানে ধর্মীয় বাধা থাকায় তারা বৈধভাবে গরু রপ্তানি করতে পারে না। তার পরও বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে ভারতের গরু আসছে এবং তা আসছে অবৈধ পথেই। তা সত্ত্বেও কিছুদিন আগে পর্যন্ত ৪০০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে। ধর্মঘটের পর হঠাৎ করে তা ৫০০ টাকায় উঠে গেল কেন? ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির যে দাবি ব্যবসায়ীরা করছেন, তার সত্যতা কিছুটা থাকলেও অতিরঞ্জনের মাত্রাই বেশি বলে মনে হয়। তার পরও ব্যবসায়ীদের এই অভিযোগ নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কোথায় কোথায় চাঁদাবাজি হয় তার একটি তালিকা ব্যবসায়ীদের থেকে নেওয়া হোক। স্থানীয় থানাগুলোকে তা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হোক। এর পরও চাঁদাবাজি হলে স্থানীয় থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মোট কথা চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সব খরচসহ একটি গরুর দাম কত পড়ে এবং প্রতি কেজি মাংসের দাম কত পড়ে, তা দেখে যুক্তিসংগত পর্যায়ে প্রতি কেজি মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিতে হবে। যে ব্যবসায়ী তার চেয়ে বেশি দামে মাংস বিক্রি করবে তাকে আইনের আওতায় নিতে হবে।

শুধু সরকার নয়, মাংস ব্যবসায়ীদের যে সংগঠন রয়েছে তাকেও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে, মুনাফা করা ব্যবসায়ের অংশ। কিন্তু অতি মুনাফা অপরাধ ও নৈতিকতাবিবর্জিত কাজ। আমরা আশা করি, বৃহত্তর সমাজের আমিষের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে মাংসের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।


মন্তব্য