kalerkantho


কাউন্সিলরদের অপরাধে জড়ানো

অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিন

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কাউন্সিলরদের অপরাধে জড়ানো

ঢাকার দুই মেয়র যখন বাসযোগ্য নগরী গড়ার চেষ্টা করছেন তাঁদের কাউন্সিলরদের কেউ কেউ খুন-জখম, মাদক ব্যবসা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়াচ্ছেন কিংবা সহযোগিতা করছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলররা কোথায় জনসেবা করবেন ও দুর্বল স্থানীয় সরকার প্রশাসনকে জোরদার করায় ভূমিকা রাখবেন, তার বদলে তাঁরা এমন সব কর্মকাণ্ড করছেন, যা ফৌজদারি অপরাধ তো বটেই স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনেও শাস্তিযোগ্য।

দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা আরো বেপরোয়া আচরণের স্পর্ধা দেখাবেন।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯-এর ১৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে একজন কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণযোগ্য হবেন। এই আইনে অসদাচরণ বলতে ক্ষমতার অপব্যবহার, আইন বা বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন, দুর্নীতি, অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসনকে বোঝানো হয়েছে। এর চেয়েও বেশি গুরুতর অভিযোগ কোনো কোনো কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে উঠছে; যার একটি চিত্র গতকাল কালের কণ্ঠ’র প্রধান প্রতিবেদনে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলকে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। একজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নিজ দপ্তরে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এমন খবর প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি করপোরেশনের মর্যাদাকেও কি ভূলুণ্ঠিত করে না?

জনপ্রতিনিধিদের সবাই খারাপ নন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে এমন অনেক ব্যক্তি সামনে চলে আসছেন যাঁদের সাংগঠনিক যোগ্যতা নেই, নীতিনৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। দলীয় সমর্থনের জোরে উড়ে এসে জুড়ে বসে তাঁরা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে দ্বিধা করেন না।

তাঁরা জনপ্রিয়তারও ধার ধারেন না। জনসেবা নয়, জনগণের সেবার অর্থ লুটপাট করাই তাঁদের আরাধ্য হয়ে ওঠে। অপরাজনীতির এই সংস্কৃতি গণতন্ত্রের ধারণার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার অপব্যবহারের সংস্কৃতি এই যে ঢাকা থেকে শুরু করে দেশময় বিস্তৃত হয়ে গেছে—তার অবসান হওয়া জরুরি। আর এ দায়িত্ব বর্তায় শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। পেশিশক্তি কদর পাবে, বঞ্চিত হবেন ত্যাগী ও আদর্শবান নেতা—এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নতুন নতুন সমস্যার জন্ম দিচ্ছে।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) কালের কণ্ঠকে বলেছেন, অভিযুক্ত কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই আশ্বাস বাস্তবায়িত হতে হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির আচরণ কী হবে সিটি করপোরেশন আইনে সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া আছে। এই আচরণ লঙ্ঘনকারীদের যদি শাস্তি না হয় করপোরেশন কাঠামো হিসেবে আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। আইনের শাসন বলে কিছু আর থাকবে না। জবাবদিহির জায়গাটি শক্ত করা গেলে আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা কমে আসবে। টাকা বা দলীয় সমর্থনের জোরে অযোগ্য, অসৎ, দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার যে ধারায় আমরা ঢুকে গেছি এর থেকেও বেরোতে হবে। আমরা যদি সত্যিই সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতি চাই—সত্যিকারের সমাজসেবীদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে।


মন্তব্য