kalerkantho


নতুন বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি

বাংলাদেশকে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (টিএফএ) নামের নতুন এক চুক্তি কার্যকর করেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১১২টি দেশ এই চুক্তি অনুমোদনও দিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, টিএফএ বাস্তবায়িত হলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ব্যয় কমবে। আমদানি-রপ্তানিতে বিশ্বব্যাপী লালফিতার দৌরাত্ম্য যেমন কমবে তেমনি বাণিজ্য সহজতর হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা মনে করছে, এই চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর নতুন পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানা মারপ্যাঁচে যখন বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য অনেকটাই হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছিল, তখন এই নতুন চুক্তি আমাদের জন্য আশীর্বাদ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ চুক্তি কার্যকর হওয়ায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজতর হবে। আমদানি-রপ্তানিতে যেসব তথ্য ও নথির প্রয়োজন হয়, তা কম্পিউটারাইজড হওয়ার ফলে তাতে সবার প্রবেশাধিকার থাকবে। এতে নতুন পণ্য রপ্তানিতে গতি আসবে। সময় ও খরচে সাশ্রয় হবে। নতুন চুক্তিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এতে রপ্তানিকারকদের প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। সহজ হবে আমদানি কার্যক্রম। রপ্তানি বহুমুখীকরণে বেশ কিছু উদ্যোগও নিয়েছে ডাব্লিউটিও। এসব উদ্যোগ সদস্য রাষ্ট্রগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করতে পারবে ততই মঙ্গল। এসব উদ্যোগ সম্পন্ন করতে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা তা করতেও প্রস্তুত।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ মেধাস্বত্বাধিকার প্রয়োগের চাপ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছাড় পেয়েছে। অন্যদিকে জিএসপি বাতিল হয়ে যাওয়ায় চাপের মুখে আছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প। আবার নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টিপিপি বাতিলের ঘোষণা দিলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না। কারণ বাংলাদেশ টিপিপির সদস্য দেশ নয়। কাজেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নতুন চুক্তির উদ্যোগগুলো কার্যকর করতে বাংলাদেশকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রেড ক্রিয়েশন ও ট্রেড ডাইভারশনে মনোযোগী হয়ে বাংলাদেশ এখন নতুন নতুন বাণিজ্য সহযোগী খুঁজে বের করতে পারে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে বাণিজ্যিক কূটনীতিতে আরো বেশি তত্পর হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম সুবিধাভোগী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

ভবিষ্যতের অর্থনীতির উদীয়মান দেশ হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম। বিদ্যমান পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে গতির সঞ্চার করা যেতেই পারে। তবে তার জন্য বাংলাদেশকে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।


মন্তব্য