kalerkantho


গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আরেক দফা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বর্ধিত দাম দুই দফায় কার্যকর হবে।

আগামী ১ মার্চ থেকে প্রথম দফা এবং ১ জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় বর্ধিত মূল্য কার্যকর হবে। বৃদ্ধির পরিমাণ হবে ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। গড় বৃদ্ধি ধরা হয়েছে ২২.৭ শতাংশ। গ্যাসের দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। কেউ কেউ এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন।

বাংলাদেশে গ্যাসের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, তার তুলনায় উত্পাদন অনেক কম। ফলে আবাসিক খাতে নতুন সংযোগ দেওয়া যেমন বন্ধ রয়েছে, তেমনি অনেক শিল্পও গ্যাসের তীব্র সংকট মুকাবিলা করছে। তার চেয়েও ভয়ংকর দিক হচ্ছে, বিদ্যমান গ্যাসকূপগুলোর উত্পাদন ক্ষমতা ও ভূগর্ভস্থ মজুদ দ্রুত কমে আসছে। এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে, ১০ বছরের মধ্যে বর্তমান মজুদ শেষ হয়ে যেতে পারে।

পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকার এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশ থেকে এলএনজি বা তরল গ্যাস এনে রূপান্তরের মাধ্যমে তা সরবরাহ করা হবে। গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করারও চেষ্টা চলছে। এমনিতেই আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। তার ওপর পরিবহন ও রূপান্তর ব্যয় মিলে তা তিন গুণেরও বেশি হয়ে যাবে। তখন গ্যাসের দাম একলাফে তিন গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার কোনো বিকল্প থাকবে না। গ্রাহকদের সেটা মেনে নেওয়া অনেক বেশি কষ্টকর হবে। তাই কারো কারো মতে, দফায় দফায় দাম বাড়ানোর এই পদক্ষেপ ঠিকই আছে। আবার অন্য পক্ষের দাবি, বাজারে যত দিন এলএনজি না আসছে তত দিন দেশীয় কূপের গ্যাসই সরবরাহ করা হবে। কাজেই এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। সেসব বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি স্থির আয়ের বা নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। কারণ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি শুধু গ্যাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে যানবাহনের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ বেড়ে যাবে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। তারও শিকার হবে সাধারণ মানুষ। তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। সরকার কি পারবে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে? বলা হয়ে থাকে, বৈধ গ্যাস সংযোগের কাছাকাছি চলে গেছে অবৈধ সংযোগ। গ্যাসের দাম বাড়িয়ে যে পরিমাণ মুনাফা পাওয়া যাবে, দুর্নীতি ও অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা গেলে পেট্রোবাংলা তার চেয়ে বেশি লাভবান হতো। অথচ সেটি করা হচ্ছে না।

আমরা আশা করি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আবার ভেবে দেখবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে কেউ যাতে ফায়দা হাসিলের সুযোগ নিতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।


মন্তব্য