kalerkantho


ভূমি অফিসে ঘুষ সন্ত্রাস

ক্ষতিপূরণের অর্থে ভাগ বসাবেন না

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য অধিগৃহীত জমির মালিকরা ঘুষ দিয়েও ঢাকা ডিসি অফিসের এলএ (ভূমি অধিগ্রহণ) শাখা থেকে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না। ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর এখন প্রাপ্য যৎসামান্য ক্ষতিপূরণও তাঁরা পাবেন না—এটা মর্মান্তিক। এজাতীয় অপরাধ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে আরো কঠিন করে দিচ্ছে।

সরকারি দপ্তরগুলোর ঘুষ গ্রহণকারীরা যতই সংঘবদ্ধ হোক, সার্বিক শক্তির কাছে তা নগণ্য। শুধু প্রয়োজন তাদের প্রতিহত করার কার্যকর উদ্যোগ। কোনো একটি অফিসে নিশ্চয়ই সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত নন। কারা কারা ঘুষের মতো অপরাধে লিপ্ত, কী কী কৌশলে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হয়ে থাকে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সে ব্যাপারে একেবারেই অজ্ঞ থাকবেন তা অসম্ভব।

বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক কালের কণ্ঠ’কে বলেছেন, মালিকানার সব কাগজপত্র থাকার পরও তাঁদের ক্ষতিপূরণের ১০ থেকে ২০ শতাংশ টাকা ঘুষ হিসেবে দিতে হয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ টাকা পর্যন্তও ঘুষ গুনেছেন কেউ কেউ। এলএ শাখার একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, এডিসি এলএর অযাচিত হস্তক্ষেপও চেক হস্তান্তরে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সংঘবদ্ধ ঘুষচক্রের সঙ্গে উঠে এসেছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের একটি শাখার ম্যানেজারেরও নাম।

টাকা গ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক এই অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের শাখা ব্যবস্থাপকের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া। বিচ্ছিন্নভাবে নয়, শত শত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে যেখানে জিম্মি করা হয়েছে, সেখানে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা কঠিন হবে না। এ ছাড়া কোন ক্ষতিগ্রস্ত কত টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন এবং কত টাকার চেক জমা দিয়েছেন, এ দুটি বিষয় মিলিয়ে দেখলেই অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ হয়ে যাবে।

ঘুষ সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে সবার আগে প্রয়োজন নীতিনির্ধারক মহলসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা। কোনো একটি অফিসের উপরস্থ কর্মকর্তারা সততার ক্ষেত্রে শতভাগ আপসহীন থাকলে মাঝারি কিংবা নিম্ন পর্যায়ের স্টাফদের পক্ষে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ সম্ভব নয়। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, ওপরের কর্মকর্তাদেরও অনেকের পকেটে ঘুষের ভাগ চলে যায়। ঘুষ নামক ব্যাধিটিকে নিরাময় অযোগ্য করে রেখেছে এই সংঘবদ্ধ চক্রই। তাদের এতটাই প্রতাপ থাকে, সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুখ খুলতেও সাহস পান না।

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হ্রাস ও জনপ্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে ঘুষ সন্ত্রাস বন্ধ হতে হবে। জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে প্রত্যেক অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলেই কেউ এ অপরাধে জড়াতে সাহস পাবে না। শুধু সরকারি অফিসগুলোয় নিয়মশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গেলে জাতীয় পর্যায়ে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য।


মন্তব্য