kalerkantho


রেল কাঠামোর পুনর্বিন্যাস

সেবার মানও বাড়াতে হবে

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রেল কাঠামোর পুনর্বিন্যাস

প্রধানমন্ত্রীর প্রাধিকারভুক্ত সেবা সংস্থা হিসেবে রেলওয়েকে আধুনিক মানের করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলস্টেশন ও রেলপথ খুলে দেওয়া হচ্ছে। পুরনো বগি সরিয়ে নতুন বগি সংযোজিত হয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময়সূচি ঠিক রাখার চেষ্টা হচ্ছে। রেলসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। একসময় রেলওয়ে ছিল যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশ রেলওয়ের গৌরব অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায় নানামুখী ষড়যন্ত্রে। লোকসানের অজুহাতে অনেক রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাতছাড়া হয়ে যায় রেলওয়ের অনেক সম্পত্তি। বর্তমান সরকার রেলওয়েকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনায় নতুন মন্ত্রণালয় গঠন করলে কিছুটা হলেও গতি আসে। এই সেবা খাতে সবচেয়ে বড় সংকট ছিল আস্থার। ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। পুরনো রেলপথে নতুন করে ট্রেন চলতে শুরু করলে এবং যাত্রীরা প্রযোজনীয় সেবা পেলে রেলের সুদিন আবার ফিরবে—এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত হয় পূর্ব ও পশ্চিম এই দুটি অঞ্চলের চারটি বিভাগের মাধ্যমে। প্রায় দুই হাজার ৯০০ কিলোমিটার রেলপথ পরিচালনায় রেলওয়ের অঞ্চল ও বিভাগ নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দুই অঞ্চল ভেঙে চারটি অঞ্চল করা হচ্ছে। চারটি বিভাগের স্থলে কাজ করবে আটটি বিভাগ। এসব অঞ্চল ও বিভাগের কার্যক্রম শুরু করার ভৌগোলিক সীমা, জনবল, আর্থিক সংশ্লেষ, অঞ্চল ও বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামোসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তাব এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুধু অঞ্চল ও বিভাগ বাড়ালেই রেলওয়ের সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে দক্ষ জনবল। রেলওয়ের বর্তমান জনবল ৪০ হাজার হলেও সেখানে সংকট আছে। নতুন বিভাগ ও অঞ্চল গঠনের পর আরো জনবলের প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে সেবার মানসিকতা নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। ট্রেনে যাতায়াত সব সময় নিরাপদ ও আরামদায়ক। কিন্তু সেবার মান না বাড়লে রেল ভ্রমণে যাত্রীদের উৎসাহিত করা যাবে না। একই সঙ্গে যাত্রা শুরুর সময় সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। বিশ্বব্যাপী গণপরিবহন হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে রেল। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও রেল ভ্রমণ যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। সেখানে রেল যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিক করে গড়ে তোলা হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে রেলওয়েকে চরম অবজ্ঞা করা হয়েছে। সড়ক পরিবহনের মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই অতীতে রেলওয়েকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা হয়েছিল, এমন অভিযোগও শোনা যায়। উন্নত দেশগুলোতে যেভাবে রেল পরিচালিত হয়, সেভাবে গড়ে তোলা যেতে পারে। বগি ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে শুধু নয়, নতুন নতুন রেলপথ চালু করে সারা দেশ রেলওয়ের নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারলে রেলওয়ে যাত্রীদের আস্থায় ফিরবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চেষ্টায় বাংলাদেশ রেলওয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমাদের বিশ্বাস।


মন্তব্য