kalerkantho

বেহাল উচ্চশিক্ষা

কর্মমুখী শিক্ষাপদ্ধতি চালু করতে হবে

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



যেকোনো দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বর্তমান সময়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলেই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা সম্ভব।

শিক্ষা যদি কর্মমুখী না হয়, তাহলে জনশক্তির দক্ষতা দিনে দিনে কমতে থাকে। ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হয়। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, এখানে শিক্ষাকে কর্মমুখী করে তোলার ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে কর্মক্ষম শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। ভবিষ্যতে চাকরির বাজার কেমন হবে, কোন বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে, দেশের পাশাপাশি বিদেশে কোন খাতের জনশক্তি প্রয়োজন, এ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। গবেষণার কোনো উদ্যোগও দেখা যায় না। বাংলাদেশে একটি বিশেষ সময়ের পর বেশির ভাগ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিতে চায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়ার পর এসব ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাংলাদেশে নেই। কর্মসংস্থানের অপর্যাপ্ত সুযোগ ও যোগ্যতার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকার বাড়ছে। অথচ এমন অনেক ধনী দেশ পাওয়া যাবে, যেখানে মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিতে যায়। অন্যরা যে ঝরে পড়ছে তা নয়, কর্মমুখী শিক্ষা নিতেই আগ্রহী হয় তারা। আমাদের দক্ষ জনবল দরকার, সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের এত চাকরি আমাদের নেই—এ কথা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় পরিকল্পনা প্রণীত হয়নি। অন্যদিকে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একাধিক প্রতিবেদনেও এ বিষয়টি উঠে এসেছে। আজকের দিনের সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন নতুন বিষয় কম বিশ্ববিদ্যালয়েই পাঠদান হচ্ছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নতুন বিভাগ খুললেও নেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক মানসম্পন্ন শিক্ষক। অন্যদিকে দেশের কারিগরি শিক্ষাও মানসম্মত না হওয়ায় বাড়ছে অদক্ষ কর্মীর সংখ্যা। প্রতিযোগিতার বাজারে তারা পিছিয়ে পড়ছে। দেশের শ্রমবাজারেই কাজ করছে দক্ষ বিদেশি কর্মী। পোশাক কারখানা, বায়িং হাউস, লেদার শিল্পের উচ্চপদে বিদেশিদের তুলনায় বিদেশিরা এগিয়ে।   

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সবার আগে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। দেশের জন্য কার্যকর কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে সার্টিফিকেটসর্বস্ব গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে বেকার সমস্যাকেই শুধু এগিয়ে নেওয়া হবে। বিশ্বায়নের যুগে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষার প্রবর্তন করতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অঙ্গীকার। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও আনতে হবে পরিবর্তন। সময়ের উপযোগী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে দক্ষ ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে। এ লক্ষ্যেই এখন সবাইকে কাজ করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।


মন্তব্য