kalerkantho


মাংসের দামে অরাজকতা

ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



 

এক সপ্তাহের ধর্মঘট শেষে রাজধানীর মাংসের দোকান খুলেছে। ধর্মঘটে যাওয়ার পর মাংস ব্যবসায়ীরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে রাজধানীর মানুষকে ৩০০ টাকা কেজি দরে মাংস খাওয়ানো সম্ভব হবে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীতে মাংসের চাহিদা বেড়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগের দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেশি দামে মাংস বিক্রি শুরু হয়েছে। আবার বেশি মুনাফার লোভে গরুর মাংসের নামে মহিষের মাংসও বিক্রি হচ্ছে।

ধর্মঘটের আগে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল চাঁদাবাজির। দোকান খোলার পরও একই অভিযোগ রয়ে গেছে। গাবতলী পশু হাটের খাজনা হিসেবে গরুপ্রতি ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ অবৈধভাবে নেওয়া হয়েছে বলে মাংস ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গত কয়েক দিনের ধর্মঘটের কারণে বাজারে মাংসের চাহিদা বাড়লেও পর্যাপ্ত গরুর সরবরাহ না থাকায় মাংসের দাম বেড়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়িয়েছে সিটি করপোরেশন। ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হওয়ার পর দেশের খামারের গরু-ছাগলের মাংস বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

এতে দেশের খামারিরা লাভবান হলেও বাজারে মাংসের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে বৈধভাবে অন্য কোনো দেশ থেকে গরু আমদানি করা গেলে বাজারে মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকত। আমাদের দেশের খামারের উৎপাদনব্যবস্থার দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। খামারের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা বা ঋণদানের বিষয়টিও বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। কিন্তু কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে মাংসের দাম বাড়িয়ে দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।

বাংলাদেশে ভোক্তাস্বার্থ কতটা সংরক্ষিত, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। বাজার অর্থনীতির কোনো সূত্র এখানে কার্যকর নয়। মাছ, মাংস কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় যেকোনো পণ্যের দাম ওঠানামা নির্ভর করে ব্যবসায়ীদের ইচ্ছার ওপর। কখনো কখনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। কখনো আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বৃদ্ধির অজুহাত খাড়া করা হয়। অসহায় ক্রেতাদের বাড়তি দাম দেওয়ার বিকল্প নেই। ভোক্তাদের এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দেওয়ারও যেন কেউ নেই। এবার মাংস ব্যবসায়ীরা পশুর হাটে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার পর শুরুতেই ভূমিকা রাখা যেত। পর্যবেক্ষকদল পাঠিয়ে অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে পারত। কোনো অনিয়ম ঘটে থাকলে ব্যবস্থা নিতে পারত। তাতে হয়তো ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। মাংসের বাজারে এমন অরাজকতাও থাকত না। সিটি করপোরেশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই ক্রেতাস্বার্থ সংরক্ষণে উদ্যোগী হবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা


মন্তব্য