kalerkantho


পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি গ্রেপ্তার

অভিযান শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি গ্রেপ্তার

জঙ্গি তৎপরতা অনেক কমেছে, এটা সত্যি। তার অর্থ এই নয় যে জঙ্গিবাদের হুমকি নাই হয়ে গেছে। জঙ্গিদের সংগঠন রয়েছে, দেশে ও দেশের বাইরে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং তরুণদের বিভ্রান্ত করে দলে ভেড়ানোর অপচেষ্টাও সক্রিয় রয়েছে। এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় গত সোমবার ‘মাস্টারমাইন্ড’ জঙ্গি রেদোয়ানুল হক রানাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রানা এত দিন ধরে আত্মগোপনে ছিল এবং পালিয়ে মালয়েশিয়া চলে গিয়েছিল। মালয়েশিয়ার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত পাঠায়। রানা শুধু রাজীব হায়দার হত্যা নয়, বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, প্রকাশক ও লেখক ফয়সল আরেফিন দীপনসহ অন্তত ১১টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি। এসব হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবেও তাকে সন্দেহ করা হয়। এর আগে রানাকে ধরিয়ে দিতে ডিএমপি পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। জানা যায়, তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রানা এবং সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল। তাদেরই চেষ্টায় দেশব্যাপী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) বেশ কিছু স্লিপার সেল গড়ে ওঠে।

অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রানা এসব স্লিপার সেল পরিচালনা করত। এমনকি মালয়েশিয়ায় বসেও সে এসব সেলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করত। তাই শীর্ষ জঙ্গি রানা গ্রেপ্তার হওয়া অবশ্যই একটি বড় ধরনের অগ্রগতি। পুরস্কার ঘোষিত কিংবা তালিকাভুক্ত শীর্ষ জঙ্গিদের কেউ কেউ এখনো ধরা পড়েনি। তারা প্রতিনিয়ত কত তরুণকে বিভ্রান্ত করছে কে জানে? তাই জঙ্গিদের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক স্টেট বা আইএস দখলদারির অবসান হতে চলেছে। আফগানিস্তানেও জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান চলছে। অতিসম্প্রতি পাকিস্তানেও জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ফলে জঙ্গিবাদের পীঠস্থানগুলো এখন ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে বিভিন্ন দেশের যেসব জঙ্গি এসব দেশে আশ্রয় নিয়েছিল, তারা নিজ দেশে ফিরে আসার ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই বাংলাদেশকে আরো সাবধানী হতে হবে। দীর্ঘদিন থেকে পলাতক বাংলাদেশিদের তালিকা ধরে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের অবস্থান চিহ্নিত করে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে রানার সঙ্গে কারো জঙ্গি যোগাযোগ ছিল কি না, তা জানতে হবে এবং প্রয়োজনে মালয়েশীয় পুলিশের সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিতে হবে।

জঙ্গিবাদের বিভ্রান্তি বা মোহ সুকৌশলে ছড়ানো হয়। ধর্মবিশ্বাসী সহজ-সরল লোকজনকে টার্গেট করে দলে ভেড়ানো হয়। জঙ্গিদের সেই কৌশলগুলো জানতে হবে এবং তাদের জাল বিস্তার বা জঙ্গি বানানোর প্রক্রিয়াগুলো বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বিভ্রান্ত তরুণের সংখ্যা ক্রমে বাড়তেই থাকবে। আমরা চাই না বাংলাদেশে আবার জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক। আবার গুলশান হামলা কিংবা মুক্তমনা লেখক-বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস ঘটনাগুলো ফিরে আসুক।


মন্তব্য