kalerkantho


গরিবের কর্মসংস্থানেও অনিয়ম

তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেটে প্রতিবছর বিশেষ বরাদ্দ থাকে। টিআর, কাবিখা, জিআরসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

এসব প্রকল্পে নিয়ম-নীতির আড়ালে অনিয়মের পাহাড় তৈরি হচ্ছে এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। সুবিধাভোগী কিছু মানুষ নিজেদের উদরপূর্তিতে এসব প্রকল্প ব্যবহার করে থাকে। সাধারণ মানুষের কল্যাণ কমই হয়। টিআর, কাবিখার মতোই অতিদরিদ্রের কর্মসংস্থানের প্রকল্প আছে। নীতিমালা অনুযায়ী এসব প্রকল্পে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী স্থানীয় কর্মক্ষম অতিদরিদ্রদের সম্পৃক্ত করার কথা। এলাকার তালিকাভুক্ত অতিদরিদ্রদের কাজে সম্পৃক্ত করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না কুমিল্লার তিতাস ও যশোরের কেশবপুরে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কেশবপুরের প্রকল্পে তালিকা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক হাজার ২০০ ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া ১২০ জন কাজ ফিরে পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। অন্যদিকে কুমিল্লার তিতাসে কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে শ্রমিক ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে মাটি কাটার যন্ত্র। বেশির ভাগ শ্রমিককে কাজ দেওয়া হয়নি। অথচ শ্রমিকদের নামে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পে শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখ থাকলেও তালিকা ও শ্রমিকের সংখ্যায় কোনো সামঞ্জস্য নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই অপকর্ম করছেন।

অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে অভাব-অনটনে থাকা মানুষকে কিছুটা সহায়তা দেওয়া। সঠিকভাবে প্রকল্পের কাজ পরিচালিত হলে গরিব মানুষের কিছুটা লাভ হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে নিজেদের ইচ্ছামতো শ্রমিক নিয়োগ, শ্রমিকের পরিবর্তে যন্ত্রের ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। তাতে এসব প্রকল্পের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। এসব প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি আছে। কোন কোন ক্যাটাগারিতে কাজ হবে, তা বলা আছে। তিতাসের একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এসব নিয়ম-নীতি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ইউনিয়নে দেওয়া হয়েছে বেশি প্রকল্প। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে কর্মকর্তাদের সহায়তায় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা টাকা তুলে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ একসময় দুর্নীতির শীর্ষে ছিল। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবার আগে দুর্নীতি দূর করতে হবে। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ে সবাইকে সক্রিয় হতে হবে। তিতাস ও কেশবপুরে যেভাবে উন্নয়ন কর্মসূচির নামে লুটপাট হচ্ছে, তার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।


মন্তব্য