kalerkantho


মায়েরাও উপবৃত্তির আওতায়

প্রাথমিকে ঝরে পড়া কমবে, বাড়বে ভর্তি

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সন্তান স্কুলে গেলে মা উপবৃত্তি পাবেন—সরকারের নতুন এ কর্মসূচি খুবই অর্থবহ হবে। বর্তমান সরকারের যেসব সাফল্য রয়েছে শিক্ষা খাতে অগ্রগতি তার অন্যতম। শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি, বিনা মূল্যে বই বিতরণসহ কিছু উদ্যোগ প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার কমালেও তা সন্তোষজনক নয়। সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর পরও অনেক পরিবার দারিদ্র্যের কারণে পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়। মাকে উপবৃত্তি দেওয়ার কর্মসূচি এ প্রবণতা কমাবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ১ মার্চ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যার আওতায় আসবেন প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী এক কোটি ৩০ লাখ শিশুর মা।

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে অনেক মনোযোগ দেওয়ার পরও আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। মানসম্মত শিক্ষকের অভাব, সৃজনশীল পদ্ধতির অজ্ঞতা, মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশার প্রতি অনীহাসহ নানা সমস্যা অগ্রগতিতে বাধা হয়ে আছে। প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ানো ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যেসব কর্মকর্তার কাঁধে, তাঁদেরও অনেকে দুর্নীতিগ্রস্ত। জালিয়াতির মাধ্যমে অমেধাবীরা চাকরি পাচ্ছেন, ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন কোটার জাল সনদ। অভিভাবকের দারিদ্র্য ও অসচেতনতা শুধু নয়, স্কুলে মানসম্মত শিক্ষাপদ্ধতি না থাকার ফলেও অনেকে পড়ালেখা বন্ধ করে দিচ্ছে।

দৈহিক শাস্তি কমানো সম্ভব হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বেশির ভাগ শিক্ষক পেশাদারির সঙ্গে পাঠদান করেন না। অনেকের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান কম। পাঠ্যপুস্তক বা সিলেবাসনির্ভর পড়ালেখা, পরীক্ষামুখী পুঁথিগত বিদ্যা ছাত্র-ছাত্রীদের সৃজনশীলতার সম্ভাবনা অঙ্কুরেই হত্যা করছে। তাদের মেধা ও মননের বহুমুখী বিকাশ ঘটছে না। শিক্ষাদান অনেকের কাছেই এখন ব্যবসা। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান সবাই জিপিএ ৫-এর পেছনে ছুটছে। জ্ঞান নয়, গ্রেডই হয়ে উঠেছে আরাধ্য। এসব কারণেই পাসের হার বৃদ্ধির অনুপাতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে না।

কিশোর অপরাধ সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত সমস্যার অন্যতম। শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ, ভালো স্কুলে পড়েও অনেকে অপরাধী হয়ে উঠছে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জায়গাটি শক্তভাবে গড়ে না ওঠার পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা কম নেই। আদর্শ, পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠায় রসদ জোগায় সাহিত্য, ইতিহাস, জীবনীগ্রন্থসহ জ্ঞানের মৌলিক কিছু ক্ষেত্র। এর চর্চা স্কুলগুলোয় তেমন হয় না। সমাজে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ার পেছনে বিশেষজ্ঞরা মানুষের মূল্যবোধ পতনকেই বেশি দায়ী করে থাকেন। ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা ছাড়া এ মূল্যবোধ গঠন অসম্ভব।

শিশুর প্রথম শিক্ষক তার মা। উপবৃত্তির কর্মসূচি দরিদ্র পরিবারগুলোকে সন্তানের শিক্ষার প্রতি ইতিবাচকই শুধু রাখবে না, সামান্য আর্থিক সহায়তাও জোগাবে। এ কর্মসূচির দ্রুত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হলে ঝরে পড়া কমবে, বাড়বে ভর্তির হার। অনেক উদ্যোগ নেওয়ার পরও যেসব কারণ প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে আছে, সেগুলোর প্রতিও নজর দিতে হবে।


মন্তব্য