kalerkantho


নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা

উভয় পক্ষকে সমঝোতায় আসতে হবে

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা

নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য শেষ কথা না হলেও বাংলাদেশের রাজনীতি সব সময় নির্বাচনমুখী; যদিও স্বাধীনতার সাড়ে চার দশক পেরিয়ে যাওয়ার পরও এখানে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়নি। অনেকের মতে, বাংলাদেশের অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা দুর্বল গণতন্ত্র।

সুস্থ ধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো পন্থায় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলে সাধারণ মানুষের মনে শঙ্কা দেখা দেয়। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। আগামী সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে মানুষের মনে সংশয় ততই বাড়ছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। বিএনপিও নির্বাচন নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠিত হয়েছে।

নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে গত নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগ চায় সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে।

গত নভেম্বরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। দলের সর্বশেষ দলীয় কাউন্সিলেও তিনি বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। তবে এই সহায়ক সরকারের রূপরেখা কী হবে সে বিষয়ে দেশের মানুষ কিছু জানে না। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, বিএনপি এখন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। একাধিক রূপরেখা তৈরি করার কথা ভাবছে দলটি। এর খসড়া তৈরি হয়ে গেলে তা বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হবে। পরে পাঠানো হবে সরকারের কাছে। এর আগে দেখার বিষয়, কী থাকছে বিএনপির সহায়ক সরকারের প্রস্তাবে।

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনকে তিনি বিতর্কিত হতে দিতে চান না। তাঁর এই বক্তব্যে গণতন্ত্রকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সংসদের বাইরে থাকলেও বিএনপি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। দলটি নির্বাচনে অংশ না নিলে, তা কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আবার নির্বাচন প্রতিহত করার নামে বিগত নির্বাচনের আগে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে রাখতে হবে, তাদের কাছ থেকে দেশের মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি আশা করে, অসহিষ্ণু, সংঘাতময় পরিবেশ নয়। আওয়ামী লীগেরও উচিত হবে বিএনপির প্রস্তাবনা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা। বিএনপিকে বুঝতে হবে দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনায় এমন কিছু থাকলে চলবে না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় পক্ষকে সমঝোতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। উভয় দলকে তাদের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনতে হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্র বিপন্ন হবে।


মন্তব্য