kalerkantho


বাঁশবাড়ী বস্তিতে ফের আগুন

তদন্ত করুন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ী বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আড়াই শ পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। শুক্রবার ভোরে মিরপুরের বাউনিয়া বস্তিতে আগুন লেগে ৩০টি ঘর পুড়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে এমন আগুনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। শহরের বস্তি এলাকা ও কাঁচা ঘরবাড়িতে অসাবধানতার কারণে অনেক সময় আগুন লাগে। মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ীতে আগুন লাগার ঘটনার স্পষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে বস্তিবাসী ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বাইরে থেকে এসে কেউ আগুন দিয়েছে। আগুন লাগার কিছু আগে মোটরসাইকেলে মুখোশধারী কয়েকজনকে সেখানে আসতে দেখা গেছে। খবরে প্রকাশ, দীর্ঘদিন ধরেই বস্তি দখলের পাঁয়তারা চলছে। স্থানীয় কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে অস্ত্রধারীরা প্রায়ই বস্তির লোকজনকে হুমকি দিত বলে অভিযোগ রয়েছে। বস্তির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। পাশাপাশি এ বস্তিতেও মাদক ব্যবসা চলত বলে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে।

কিছুদিন আগেও রাজধানীর মহাখালীতে একটি বস্তিতে আগুন লাগে। অর্থাৎ রাজধানীর বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের আগুন লাগার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে বস্তি দখল। বস্তিবাসীদের সরিয়ে দিয়ে দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যেও অনেক সময় বস্তিতে আগুন দেওয়া হয়। মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ী বস্তির মালিকানা নিয়ে যেহেতু দ্বন্দ্ব ছিল, কাজেই এমন সন্দেহ করাই যেতে পারে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। যদি এমন হয়, বহিরাগত কেউ বস্তিতে আগুন দিয়েছে, তাহলে তাদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। রাজধানীর বেশির ভাগ বস্তিই আবাসিক এলাকাসংলগ্ন। বস্তিতে আগুন লাগলে নিকটস্থ আবাসিক এলাকায়ও আতঙ্ক ছড়ায়। বাঁশবাড়ী কিংবা বাউনিয়া বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও সহস্রাধিক মানুষ গৃহহীন হয়েছে। অনেকের সারা জীবনের সঞ্চয় আগুনে পুড়ে গেছে। এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষের স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা এখনো করা যায়নি। বস্তিই তাদের ভরসা। পাশাপাশি বস্তির বাসিন্দাদেরও আগুন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।

বাঁশবাড়ী কিংবা বাউনিয়া বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ কারো স্বার্থের বলি হতে পারে না।


মন্তব্য