kalerkantho


চালের বাজার অস্থির

অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানুন

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চালের বাজার অস্থির

আমন ধান উঠে গেছে বেশ কিছুদিন আগে। কৃষকের হাতে বিক্রি করার মতো কোনো ধান-চাল অবশিষ্ট নেই। সব চলে গেছে চালকল মালিক, ফড়িয়া, পাইকারি ব্যবসায়ী ও মজুদদারদের হাতে। তাই চালের বাজারও এখন তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা চালের সরবরাহ কমিয়ে দিলে খুচরা বাজারে দাম বেড়ে যাবে, এটি অঙ্কের কোনো জটিল হিসাব নয়। এ সুযোগই তারা নিয়েছে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মোটা চালের, যার ভোক্তা অপেক্ষাকৃত দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। ধান উৎপাদনকারী কৃষক ও কৃষি শ্রমিকও রয়েছে এ শ্রেণির মধ্যে। ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার বেপরোয়া কারসাজি থেকে এই দরিদ্র শ্রেণিকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, ধান-চালের দাম বেশি থাকলে কৃষকরাই লাভবান হয়।

তাঁর সঙ্গে দ্বিমত করার কোনো অবকাশ নেই। তবে তার সঙ্গে একটি সময়ের হিসাব থাকে। কৃষক ধান-চাল বেশি দিন নিজের কাছে ধরে রাখতে পারে না। উৎপাদন ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর পর যা থাকে সংসারের নানা প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অল্পদিনের মধ্যেই তা বিক্রি হয়ে যায়। এরপর ধান-চালের দাম বাড়লেও তাতে কৃষকের কোনো লাভ হয় না, বরং অনেক কৃষককে তখন বাড়তি দামে চাল কিনতে হয়। তাই কৃষককে লাভবান করতে হলে উৎপাদন মৌসুমে ধান-চালের বর্ধিত দাম নিশ্চিত করতে হবে। অথচ হয় তার উল্টোটা। উৎপাদন মৌসুমে দাম কম থাকে। অনেক সময়, কৃষকের উৎপাদন খরচও ওঠে না। আর যখন কৃষকের ঘর থেকে ধান-চাল ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায় তখনই দাম বেড়ে যায় লাফ দিয়ে। বোরো ধান বাজারে আসতে এখনো দুই-আড়াই মাসের মতো বাকি। এই পুরো সময়টাই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চালের বাজার অস্থির করে রাখতে চাইবে এবং অযৌক্তিক মুনাফা লুটবে। এ সময়ে বাজারে চালের দাম যেন লাফিয়ে লাফিয়ে না বাড়ে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে আড়তদার-মজুদদারদের গুদামের হিসাব রাখতে হবে। প্রতিদিন কত চাল ঢোকে আর কত চাল বেরোয় তা নজরদারিতে রাখতে হবে। দেখতে হবে, কেউ যেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে বাজারে সংকট সৃষ্টি করতে না পারে এবং অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াতে না পারে। খোলাবাজারে চাল বিক্রির সরকারি উদ্যোগও বাড়িয়ে দিতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে, চালের কোনো ঘাটতি নেই। গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কিন্তু গুদামের মজুদ অটুট থাকলেও বাজারে যদি দাম বেড়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই লাভবান হবে না। বাজারে চালের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি মোকাবিলা করে চালের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। এ জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার সবই করতে হবে। বোরো ধান বাজারে না আসা পর্যন্ত এ দায়িত্ব সরকারকেই পালন করতে হবে।

 


মন্তব্য