kalerkantho


গাড়ির শুল্ক ছাড়ের অসৎ ব্যবহার

দেশি-বিদেশি সবাইকে স্বচ্ছ থাকতে হবে

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পরামর্শদাতা নিজেই যদি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান, পথপ্রদর্শক যদি নির্ভরযোগ্য না হন—অনুসরণকারীরা কাকে আদর্শ মানবে? ঋণ দেওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যারা আমাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে থাকে, সেই দাতাদের একটি বড় অংশ যখন নিজেরাই অস্বচ্ছতার চর্চা করে, তা বড় দুঃখজনক বৈকি! বিদেশি সংস্থার কর্মী হওয়ার সুযোগে অনেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কেনা বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের পর নিয়ম অনুযায়ী ফেরত নিচ্ছেন না কিংবা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন। ২৬টি বিদেশি সংস্থার অন্তত ৪০০ কর্মকর্তা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত; এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মকর্তা বিশ্বব্যাংকের।

তাঁদের ব্যবহৃত অন্তত ৫৩টি গাড়ি নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এ খবর নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক।

অপরাধের দায় কি আমাদেরও নেই! খবরে এসেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা, দালাল, গাড়ি ব্যবসায়ী চক্র এ দুর্নীতিতে জড়িত। তারা ভুয়া নিবন্ধনের জন্য জাল কাগজপত্র তৈরি করে শুল্ক ফাঁকির সুযোগ করে দেয়। এমন একটি বিলাসবহুল গাড়ির ভুয়া নিবন্ধন করে দিতে চক্রটি ১৭ লাখ টাকা নিয়েছে। সংস্থাগুলোর দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ তদন্তও সততার সঙ্গে হতে হবে; প্রভাবিত হওয়া যাবে না। এ কথা এ জন্য বলতে হচ্ছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত এ প্রতিষ্ঠানেরও কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থের কাছে বিক্রি হয়ে যান বলে মাঝেমধ্যে তথ্য আসে।

আর বিআরটিএকেন্দ্রিক দুর্নীতি তো অনেকটাই ওপেন-সিক্রেট! বিআরটিএ দুর্নীতির আখড়া হয়ে আছে; ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে মানুষ হত্যার স্টিয়ারিংও তারা তুলে দিচ্ছে অদক্ষ চালকদের হাতে।

এ নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়।

গাড়ির শুল্ক ছাড়ের সুবিধার অসৎ ব্যবহার অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। এমনকি আমাদের আইন প্রণেতা তথা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও কেউ কেউ প্রলোভনের হাতছানি অস্বীকার করতে পারেননি। যাঁরা নিয়ম লঙ্ঘন করছেন তাঁদের সততার জায়গাটি যেমন আরো উন্নত হওয়া উচিত, জোরদার হওয়া দরকার আমাদের নজরদারি ব্যবস্থারও। বিশ্বব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অন্য দাতা সংস্থাগুলোরও উচিত কর্মস্থলে তাদের কর্মকর্তাদের স্থানীয় আইন-কানুন পুরোপুরি পালনে বাধ্য করা। প্রতিষ্ঠিত সুনাম নষ্ট হয়, অন্যের আস্থায় চিড় ধরে এমন কিছু করা কারোরই উচিত নয়।


মন্তব্য