kalerkantho


নতুন ইসির যাত্রা শুরু

সততা, নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিন

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নতুন ইসির যাত্রা শুরু

কাজ শুরু করেছে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারা ঘোষণা দিয়েছে, কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার। অতীতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই তারাও আশা করে, বর্তমান ইসি সেসবের ঊর্ধ্বে উঠে আগামী পাঁচ বছর দেশবাসীকে পরিচ্ছন্ন নির্বাচন উপহার দেবে। নির্বাচন কমিশন, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) নিয়ে শুরুতে আপত্তি জানালেও বিএনপি নেতারা এখন বলছেন, তাঁরা স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নেবেন এবং নতুন ইসির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন; তার পরই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁরা অংশ নেবেন কি না। সেদিক থেকে বলা যায়, বর্তমান ইসি সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এখন ইসিকে তাদের কাজকর্মের মাধ্যমে জনগণের আস্থার সেই জায়গাটি ধরে রাখতে হবে এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করতে হবে।

পাঁচ সদস্যের বর্তমান ইসিতে দুজন কমিশনার রয়েছেন, যাঁরা অতীতেও নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রমাণ রেখেছেন। এটি বর্তমান ইসির একটি অতিরিক্ত প্রাপ্তি। অন্য কমিশনাররা ইসির কাজে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও নিজ নিজ ক্ষেত্রে তাঁদের দায়িত্ব পালনের ভালো দৃষ্টান্ত রয়েছে। বর্তমান সিইসি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

সম্মুখ সমরে তাঁর সাহসী ভূমিকার কথা এখনো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ স্মরণ করে। আমাদের বিশ্বাস, ইসি পরিচালনায়ও তিনি তাঁর সেই সাহসী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন। এখন সময় নিয়ে দেখার পালা। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান ইসিকে প্রথমেই আগের ইসির সাফল্য-ব্যর্থতাকে মূল্যায়ন করে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষ করে, তাঁদের সমালোচনা, সীমাবদ্ধতা ও ক্ষেত্রবিশেষে ব্যর্থতাগুলো চিহ্নিত করে সেসবের কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। এরপর তা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। আগামী পাঁচ বছর এই ইসি যত নির্বাচন পরিচালনা করবে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচন, যা অনুষ্ঠিত হবে ২০১৯ সালের শুরুতে। দুই বছরও পুরো নেই। সেই নির্বাচনে যেসব জাতীয় রাজনৈতিক দল অংশ নেবে, তাদের সঙ্গে ইসির নিয়মিত যোগাযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তার আগে অবশ্যই জাতীয় সংসদের যেসব উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেগুলোতে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ রাখতে হবে।

সমালোচনা বা বিতর্ক করতে চাইলে সব কিছু নিয়েই করা যায়। কিন্তু কেবল সমালোচনার জন্য সমালোচনা করলে তা জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ারই জন্ম দেয়। আমরা আশা করি, রাজনৈতিক দলগুলো কেবল সমালোচনা না করে ইসির প্রতি সহযোগিতার হাতও বাড়িয়ে দেবে। তাদের ভুলত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিয়ে তা সংশোধনের সুযোগ করে দেবে। অন্যদিকে আমরা চাই, বর্তমান ইসিও সততা, নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা প্রমাণে তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা প্রদর্শন করবে। তার পরও ভুলত্রুটি হতেই পারে। সে ক্ষেত্রে সমালোচনাকে বৈরিতা না ভেবে সাদরে গ্রহণ করতে হবে এবং সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। আমরা বর্তমান ইসির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।


মন্তব্য