kalerkantho


প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্যে কারা

সর্বনাশা প্রক্রিয়া বন্ধ করুন

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্যে কারা

পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। গত কয়েক বছর ধরেই লজ্জাকর ঘটনাটি ঘটতে থাকলেও এখন পর্যন্ত উেসর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঠিক কোন জায়গা থেকে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, তা উদ্ঘাটন করা যায়নি। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও কারা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবছর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, একটি শক্তিশালী চক্র কাজটি করছে। ফলে জেএসসি-এসএসসি থেকে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি, এমনকি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হচ্ছে। এবারও এসএসসি পরীক্ষার একাধিক বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর গণমাধ্যমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার না করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে তার সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার কয়েকজনকে নেওয়া হয়েছে পুলিশ রিমান্ডে।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপা হয় বিজি প্রেসে। পরীক্ষার দুই বা তিন দিন আগে সিলগালা করে পাঠানো হয় জেলা পর্যায়ে।

সেখানে ট্রেজারিতে প্রশ্নপত্র সুরক্ষিত থাকে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তা কেন্দ্র সচিবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কেন্দ্র সচিবকে সিলগালা করা প্রশ্নপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর এক বা দেড় ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর কথা। আধাঘণ্টা আগে তা খোলা হয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় সন্দেহের তীর বিজি প্রেসের দিকে। আবার পরীক্ষা শুরুর আধাঘণ্টা আগে যখন প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, তখন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের শিক্ষকরাই সন্দেহের তালিকায় চলে আসেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত উৎস চিহ্নিত করা না যাওয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল হোতারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করা এখন কারো কারো জন্য স্থায়ী ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ আছে, একটি চক্র প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।  

প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর গণমাধ্যমে এলে ঘটনার তদন্তে কমিটি হয়। এই কমিটি তদন্ত শেষে একটি সুপারিশও করে। কিন্তু সেসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হয় না। ২০১৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর গঠিত আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটি যে সুপারিশগুলো করেছিল, তা এখন পর্যন্ত তালাবন্দি অবস্থায় আছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের ব্যবস্থা থাকলেও কেউ সাজা পেয়েছে, এমন উদাহরণ কি দেওয়া যাবে? পাবলিক পরীক্ষার উপযোগিতা প্রায় বাতিল করে দিয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। এটা রোধ করতে না পারলে আগামী দিনে এমন ঘটনা আরো ঘটতে থাকবে। হোতাদের খুঁজে বের করে উৎস বন্ধের পাশাপাশি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও ভেবে দেখা দরকার। অভিযোগ অস্বীকার না করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারলে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব।


মন্তব্য