kalerkantho


নিম্নমানের ওষুধের ব্যবসা

শুধু সনদ বাতিল নয়, শাস্তি দিন

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ওষুধ এমন একটি পণ্য, যার সঙ্গে মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন সরাসরি জড়িত। অথচ বাংলাদেশে ওষুধ নিয়ে চলছে চরম অরাজকতা। নকল ও ভেজাল ওষুধের ছড়াছড়ি যেমন আছে, তেমনি আছে নিম্নমানের ওষুধ। মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০টি কম্পানির সব ওষুধ ও ১৪টি কম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এতে দেশের ওষুধ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করা যায়। জাতীয় ওষুধনীতির খসড়ায়ও ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। জীবন রক্ষার ওষুধ যেন মৃত্যুর কারণ না হয়, তা দেখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য কোনো ব্যবসার সঙ্গে ওষুধ ব্যবসার তুলনা করা যাবে না। কারণ ওষুধ হচ্ছে সেবাপণ্য। এই পণ্য আমদানি, প্রস্তুত ও বিপণনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কিন্তু এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কারণে দেশের মানুষকে ওষুধ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।

ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ সেবনে মৃত্যুর অনেক ঘটনাও ঘটেছে এ দেশে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এমন অনেক ওষুধ পাওয়া যায়, যেগুলো শহরাঞ্চলে পাওয়া যাবে না। আবার অধিক মুনাফার লোভে জীবন রক্ষাকারী অনেক ওষুধ ভেজাল হচ্ছে। চোরাপথে বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে অনুমোদনহীন নানা ওষুধ। উৎপাদন বন্ধ ও লাইসেন্স বাতিলের যে নির্দেশনা উচ্চ আদালত থেকে এসেছে, তা দেশের মানুষের জীবন সুরক্ষার পক্ষে। প্রশংসনীয় ও যুগান্তকারী আদেশটি কিভাবে কার্যকর ও বাস্তবায়িত হয়, তা এখন দেখার বিষয়। দেশে এমন অনেক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল মেনে ওষুধ উৎপাদন হয় না। এসব কম্পানি খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অভিযোগ রয়েছে, অনেক কম্পানির নিম্নমানের ওষুধ এখনো বাজারে থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবার কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করেও অনেক প্রতিষ্ঠান ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। শুধু এই ৩৪টি কম্পানি নয়, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশে কালো তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও নতুন করে ভেবে দেখা দরকার। ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাত করে এসব প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও লাইসেন্স বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। নিম্নমানের ওষুধ তৈরি দেশের প্রচলিত আইনেই অপরাধ। এই অপরাধের বিচার হওয়া উচিত। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ওষুধ শিল্পে অল্প দিনেই শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আমরা মনে করি।


মন্তব্য