kalerkantho


নতুন ইসির যাত্রা শুরু আজ

কাজ করেই নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নতুন ইসির যাত্রা শুরু আজ

নতুন নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। নতুন নেতৃত্বে ইসিকে আরো সুসংগঠিত, সংহত দেখার আশায় দেশবাসীও অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ। আজ শপথ গ্রহণের মাধ্যমে কমিশন দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে কাঁধে নিচ্ছে। নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনের চার সদস্যের জন্য আমাদের শুভকামনা।

নতুন ইসির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সব রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করা। নিরপেক্ষতা ও  আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে এ সমর্থন দ্রুতই লাভ করা যাবে।

দেশবাসী আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ দেখতে চায়। তারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগেরও পূর্ণ নিশ্চয়তা আশা করে। অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য সুচারুরূপে পালনের মাধ্যমেই মানুষের এই প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশনকে পূরণ করতে হবে। বিদায়ী কমিশন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পরিচালনায় যে ভূমিকা রাখে তা সব মহলের প্রশংসাই শুধু কুড়ায়নি, মানুষকে নতুন আশায় উজ্জীবিত করেছে। নির্বাচন মানেই ক্ষমতাসীন দল বা সরকারের প্রভাবদুষ্ট একটি আয়োজন—এই নেতিবাচক জায়গা থেকে আমাদের এই যে উত্তরণ ঘটছে, তা গণতন্ত্রের জন্যও শুভবার্তা বহন করছে।

ব্যক্তি, দল, প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে আমাদের তরফেও এখন দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের সাবলীল পথচলায় সহায়তা করা। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে কমিশনকে আস্থায় নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ানো। প্রকৃত গণতন্ত্রে ব্যক্তি মানুষের মত প্রকাশের অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাদের এই অধিকারের ওপরও দলগুলোকে বিশ্বাস রাখতে হবে। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার মধ্য দিয়ে। আমাদের ভোটাররা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। তারা যোগ্য, আদর্শ ও প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব দেখতে চায়। মানুষের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রধান দায়িত্বটি নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক মহল—এই দুই পক্ষের কাঁধে বর্তায়। জাতীয় স্বার্থে দায়িত্বটি পালন করতে হবে।

দেশের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বিএনপি এম নুরুল হুদার  নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাচ্ছে—এটি সবার জন্যই সুখবর। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও ইতিবাচক রাজনীতির এই ধারা যেন অব্যাহত থাকে। বর্জন নয়, চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মধ্য দিয়েই শক্তি প্রমাণ করতে হয়। এখানে নির্বাচন কমিশনের দায় হচ্ছে, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার সবারই গণতান্ত্রিক অধিকারটি সমুন্নত রাখার ব্যাপারে আন্তরিক থাকা। তাদের দায়বদ্ধতা থাকবে সরকার, ক্ষমতাসীন দল বা মহল বিশেষের কাছে নয়, জনগণের কাছে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আসার কারণে গণতন্ত্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে আমরা সরে যাচ্ছি। যোগ্য জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনে আসছেন না। সাধারণ মানুষের পছন্দের প্রার্থীরা অনেক সময়ই মনোনয়ন পান না। অর্থবিত্ত, প্রভাবের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে জনপ্রতিনিধিত্ব। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে জাতিরই ক্ষতি করে। যোগ্য নেতৃত্ব না এলে আমরা জাতি হিসেবে এগোব কী করে? আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইসি যেন সজাগ থাকে। সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করতে হবে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ কয়েকটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও উপনির্বাচন সামনে। নিরপেক্ষতা প্রমাণের এই চ্যালেঞ্জে তাঁরা যেন শতভাগ জয়ী হন।


মন্তব্য