kalerkantho


আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস

জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক

অন্যান্য   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হুঙ্কার, আশ্বাস, ভবিষ্যদ্বাণী কিছুই কাজে আসছে না। এবারও এসএসসি পরীক্ষায় গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী আগের রাতেই প্রশ্নপত্র পেয়ে যায় এবং পর দিন পরীক্ষার হলে দেওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তা হুবহু মিলে যায়। ফলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী, যারা প্রশ্নপত্র পায়নি, তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী একটি শক্তিশালী চক্র দাঁড়িয়ে গেছে। ফলে এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা থেকে শুরু করে মেডিক্যাল, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা পর্যন্ত—সর্বত্রই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠছে। এই চক্র আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফাঁস করা প্রশ্ন থেকে দ্রুত ফায়দা হাসিলের ব্যবস্থাও করে নিচ্ছে। জানা যায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এই চক্র একেকটি পরীক্ষা থেকে কোটি কোটি টাকা পর্যন্ত কামিয়ে নেয়। এবার এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার জানিয়েছেন, আগের দিন রাতে যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে তা তাঁরা দেখেছেন। এর সঙ্গে পরীক্ষার হলে দেওয়া প্রশ্নপত্রের মিল নেই।

তবে তিনি স্বীকার করেছেন, পরীক্ষার দিন সকাল সাড়ে ৯টায় যে প্রশ্নপত্রের কপি তাঁরা পেয়েছেন, তার সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্র মিলে গেছে। পরীক্ষা শুরু হয় সকাল ১০টায়। তার অর্থ, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং তা ছড়িয়ে গেছে। তাঁরা প্রশ্নপত্রটি সকাল সাড়ে ৯টায় পেলেও অনেক পরীক্ষার্থী তা আগেই পেয়ে থাকতে পারে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ধারণা করছেন, ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে থাকতে পারে। শুধু ধারণা বা অনুমান প্রকাশ নয়, ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানতে হবে এবং জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তা না হলে বছরের পর বছর এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলতেই থাকবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের কঠিন শাস্তির বিধানসহ আইন রয়েছে। কিন্তু সেই আইনে কারো সাজা হয়েছে বলে জানা যায় না। শিক্ষক-শিক্ষাবিদরা প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন, সেগুলোও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। প্রশ্ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও পরীক্ষার আগে আগে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্ন তৈরি করে কেন্দ্রগুলোতে পাঠানোর সুপারিশ তার মধ্যে একটি। এ ক্ষেত্রে আগের রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগই থাকে না। এমন অনেক সুপারিশই হয়তো ফাইলবন্দি হয়ে আছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ কি করবে-না করবে, তা তারাই ভালো বুঝবে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমরা চাই, আর একটি পরীক্ষায়ও যেন কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন বঞ্চিত ও বিভ্রান্ত না হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই তা নিশ্চিত করতে হবে।


মন্তব্য