kalerkantho


বন্ড সুবিধার আড়ালে অর্থপাচার

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বন্ড সুবিধার আড়ালে অর্থপাচার

দেশের শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিশেষ কিছু শর্তে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়। বিদেশ থেকে বিনা শুল্কে কাঁচামাল এনে নিজস্ব বন্ডেড ওয়্যারহাউসে রেখে পুরোটাই সংশ্লিষ্ট কারখানায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা।

কোনোভাবেই এসব পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না। শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পের উত্পাদন উৎসাহিত করতেই এসব শুল্কমুক্ত সুবিধা সরকার দিয়ে থাকে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানই সরকারের এসব বাধ্যবাধকতা মানে না। বিধি-নিষেধ না মেনে বন্ড সুবিধার আওতায় বিনা শুল্কে আনা কাগজ ও কাগজ জাতীয় মালামাল খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। দেশের কাগজকলে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তৈরি হয় অসম প্রতিযোগিতা। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে অনেকে বিদেশে অর্থপাচার করছে, এমন অভিযোগও আছে। অস্তিত্বহীন অনেক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উত্পাদনে থাকা পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠানও বন্ড সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির নামে টাকা পাচার করেছে বলে অভিযোগ আছে। এনবিআরের তদন্তেই এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এনবিআরের এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্স এক হাজার ৬৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে, যারা বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে এনবিআর। এরই মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর বা বিআইএন অকার্যকর করা হয়েছে। একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সব বন্দর, বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাস, স্বরাষ্ট্র, আইন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। ফলে তাদের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। জানা যায়, অভিযুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে তা ব্যাংক ও এনবিআরে জমা দিয়েছে। এমনকি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য আমদানি করা হচ্ছে সে সম্পর্কেও সত্য তথ্য দেয়নি এসব প্রতিষ্ঠান। পণ্য উত্পাদনে যে পরিমাণ কাঁচামাল প্রয়োজন তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পণ্য আমদানি করে অতিরিক্ত পণ্য খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়ে এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। আবার বিদেশে যেসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পণ্য আমদানির নামে এলসি খুলে অর্থ পাঠানো হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগেরই মালিক তারা নিজেরাই। বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেও অর্থ পাচার করা হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠান এত দিন ধরে যা করে এসেছে, তা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড। শুধু বিআইএন নম্বর অকার্যকর করলেই তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ব্যবসার নাম করে তারা শুধু আর্থিক অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি দেয়নি, দেশের অর্থনীতিকেও বিপর্যস্ত করেছে। এমন প্রতিষ্ঠানকে দেশের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের আদালতের কাঠগড়ায় তুলে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করলে তা উদাহরণ হয়ে থাকবে। তাহলে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ করতে উদ্যোগী হবে না। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।


মন্তব্য