kalerkantho


সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকি

আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অনেক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হওয়ার সুযোগ নিয়ে ভ্যাট আইন লঙ্ঘন করছে। গতকাল কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬ হাজার ২৬৮ কোটি ৯৪ লাখ ১২ হাজার ৯৫৩ টাকার ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি ৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠান।

এনবিআরও তাদের কাছে এতটা অসহায় হয়ে পড়েছে যে বকেয়া আদায়ের জন্য আইনি পরামর্শ চেয়ে অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ে তারা সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে। এনবিআর উদ্বেগের সঙ্গে বলেছে, বারবার তাগাদার পরও এসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাট পরিশোধ করছে না। প্রতি মাসেই নিয়মিত ভ্যাট যুক্ত হয়ে বকেয়ার পরিমাণ বাড়ছে।

এনবিআর বলে থাকে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিলে তা আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রয়োজনে বিভাগীয় মামলা দায়ের ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করে ভ্যাট আদায় করা হয়। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিলে কিছু করার থাকে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। ভ্যাট দেওয়ার তাগাদা দিলে লোকসানের অজুহাত দাঁড় করায়। অথচ সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন লাভের মুখে রয়েছে।

গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ আরো অনেক বিলে সাধারণ মানুষকে ভ্যাট গুনতে হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা এ অর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরে জমা দিতে বাধ্য। কারণ প্রতিষ্ঠানের নয়, এ অর্থ জনগণের। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাটের এই হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে রেখে জাতীয় অর্থনীতিকেই কি ক্ষতিগ্রস্ত করছে না? সমস্যাটি নতুনও নয়। তাহলে এই বকেয়া ভ্যাট আদায় করার কার্যকর কৌশল বের করা হচ্ছে না কেন? ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দুই পর্যায়েই ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতি দেশে এতটাই জেঁকে বসেছে—সরকারি লেবেল গায়ে থাকলে অনেকে আইনেরও পরোয়া করে না। সরকারি সেবা নিয়ে ব্যক্তি থেকে ভ্যাট আদায় করে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দেওয়া অবৈধই শুধু নয়, অনৈতিকও। ভ্যাট বুঝে না পেলে রাষ্ট্রই বা কিভাবে তার নাগরিকদের বর্ধিত সেবা দেবে?

ভ্যাট অর্থনৈতিক কাঠামোর অন্যতম অঙ্গ। জাতীয় অর্থবছরের বাজেটে সরকারি রাজস্বের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে আয়কর ও ভ্যাটকে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সব স্তরেই ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতা প্রবলভাবে রয়েছে। এই নৈরাজ্য থেকে বের হওয়ার স্থায়ী কৌশল বের করতে হবে। ভ্যাট অর্থনীতির ফাঁকির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।


মন্তব্য