kalerkantho


দলীয় দ্বন্দ্বে প্রাণহানি

রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে হবে

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দলীয় দ্বন্দ্বে প্রাণহানি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীস্বার্থে দলের অভ্যন্তরে যে বিরোধ দেখা দেয়, কখনো কখনো তা রূপ নেয় প্রাণঘাতী সংঘর্ষে। এই সংঘাতের বলি হয় সাধারণ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঘটনার দায় কেউ নিতে চায় না। ফলে বিচার দূরের কথা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রভাবশালীদের চাপে থাকে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ১৪৭, ২০১৫ সালে ১৫৩ ও ২০১৬ সালে ১৭৭ জন রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ সাধারণ মানুষ। এসব সংঘর্ষের সঙ্গে তাঁরা কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয়। রাস্তায় বেরিয়ে, এমনকি ঘরের ভেতরেও কেউ কেউ জীবন দিয়েছেন। সাধারণত এসব গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বেশির ভাগই ঘটে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলে। রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সাম্প্রতিক বলি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল।

কোনো রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানীরা সেখানে ভিড় জমায়। দলের ত্যাগী ও পুরনো নেতাকর্মীরা তখন উপেক্ষিত হতে থাকেন। কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবে দলের অভ্যন্তরে অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে সশস্ত্র সংঘর্ষ ঘটে থাকে। রাজনৈতিক বিরোধ, প্রতিপক্ষকে জব্দ করা, আধিপত্য বিস্তার, জমি দখল, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, দরপত্র নিয়ে বিরোধের জেরে হরহামেশাই রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়। অবাধ লুণ্ঠন ও লোভের বাণিজ্য দলের অভ্যন্তরে যে রণক্ষেত্র তৈরি করে, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে প্রকাশ্য সংঘর্ষে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। ফলে প্রভাবশালীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অভ্যন্তরীণ কলহ ও গ্রুপিং খোলা চোখে দৃশ্যমান হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে খুব কমই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা মেনে চলার প্রবণতা নেই। দলীয় নিয়মকানুনও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পালিত হয় না। অপরাধ করেও দলীয় প্রভাবে পার পেয়ে যাওয়ার উদাহরণ তৈরি হওয়ায় মারমুখী হয়ে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলো। সংঘাত অনিবার্য হয়। একসময় রাজনৈতিক স্বার্থে উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে যায়। শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শূন্যতা পূরণ হয় না।

সাংঘর্ষিক রাজনীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে হানাহানির ঘটনা বন্ধ করা যাবে না। রাজনীতি যে লাভজনক ব্যবসা নয়, এই বোধ সবার মধ্যে সঞ্চারিত করার মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে হবে। একটি রাজনৈতিক দলে নানা মত ও উদ্দেশ্যের লোক থাকতেই পারে। কিন্তু সংগঠনকে যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে শৃঙ্খলা ও নীতিবোধ থেকে কর্মীরা ক্রমেই দূরে সরে যাবে। স্বার্থ-সংঘাত ও কোটারি-দ্বন্দ্ব রোধ করা সম্ভব হলে যেকোনো দলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। রাজনৈতিক সংগঠনকেই এ ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা থাকলে অনৈতিকতা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। গুণগত মানের পরিবর্তনই রাজনৈতিক সংঘর্ষ বন্ধ করতে ভূমিকা রাখতে পারে।


মন্তব্য