kalerkantho

তদন্তেই পাঁচ বছর

সাগর-রুনি হত্যার বিচার মিলবে কবে

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার পাঁচ বছরেও রহস্যের কিনারা হয়নি। বিচার দূরের কথা, অগ্রগতি প্রতিবেদনের বাইরে কোনো প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি। পাঁচ বছরে ৪৭ বার সময় দেওয়া হলেও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। মামলাটি গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হলেও সাগর-রুনির হতাশ স্বজন ও সহকর্মীদের ধারণা, প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে না।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়ি থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। দেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টিকারী এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য ততকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে আশা প্রকাশ করেছিলেন, ১৫ দিনের মধ্যে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। কিছুই হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে শেরেবাংলানগর থানার পুলিশ তদন্তভার পেয়েছিল। পরে তদন্তের ভার দেওয়া হয় ডিবি পুলিশের ওপর। দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি।

আদালত র‌্যাবকে তদন্তের নির্দেশ দেন। হত্যার স্থান থেকে জব্দ করা বেশ কিছু আলামত পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে। সেখান থেকে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। কিন্তু অগ্রগতি প্রতিবেদন ছাড়া পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি। গত পাঁচ বছরে ১৫৮ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাংবাদিক দম্পতি হত্যার মোটিভ উন্মোচিত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য কেন এখন পর্যন্ত উন্মোচিত হচ্ছে না, সেটাও এখন বড় রহস্য। আজ সাগর-রুনি হত্যার পাঁচ বছর পূর্তিতে তাঁদের সহকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন।

বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অনেকটাই বিচারহীনতার নামান্তর। একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তেই যদি পাঁচ বছর পেরিয়ে যায়, তাহলে বিচার হবে কবে? এটা তো স্পষ্ট যে এ-জাতীয় রহস্য উন্মোচিত হলে, সুবিচার পাওয়া গেলে জনমনে স্বস্তি ফেরে। সংবাদকর্মী হত্যার তদন্ত ও বিচার বিলম্বিত হলে সাধারণ মানুষের মনেও হতাশার জন্ম দেয়। বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে। কালক্ষেপণের আর কোনো সুযোগ নেই। সাগর-রুনি হত্যার বিচার দ্রুততর হলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে। আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে।   


মন্তব্য