kalerkantho


কক্ষপথে যাবে ন্যানো স্যাটেলাইট

বাংলাদেশি তরুণদের সাফল্য

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কক্ষপথে যাবে ন্যানো স্যাটেলাইট

খুব দ্রুত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট পরিবারের সদস্য হতে যাচ্ছে। আগামী মে মাসে বাংলাদেশের প্রথম অতিক্ষুদ্র কৃত্রিম উপগ্রহ (ন্যানো স্যাটেলাইট) ‘ব্র্যাক অন্বেষা’ কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। তার আগে আগামী মাসে এটি যুক্ত হবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের তালিকায়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে স্যাটেলাইটটি তৈরি করেন এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক তিন ছাত্র, যাঁরা এখন জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (কিউটেক) কর্মরত। ন্যানো স্যাটেলাইটটি উেক্ষপণ ও কক্ষপথে স্থাপন করবে জাপান এরোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জেএএক্সএ)। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে প্রযুক্তি বিকাশের এক নতুন দিগন্তে।

পৃথিবী দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ, আবহাওয়ার তথ্য, গবেষণাসহ সামরিক-বেসামরিক নানা খাতে স্যাটেলাইটের ব্যবহার দিন দিনই বাড়ছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও স্যাটেলাইটের ব্যবহার প্রায় সার্বক্ষণিক হয়ে উঠেছে। উন্নত দেশগুলোর প্রত্যেকেরই নিজস্ব এক বা একাধিক স্যাটেলাইট রয়েছে কক্ষপথে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানেরও রয়েছে নিজস্ব স্যাটেলাইট।

বাংলাদেশও নিজস্ব স্যাটেলাইট উেক্ষপণের আয়োজন করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সর্বতোভাবে অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। এর জন্য বাংলাদেশকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। ব্র্যাক অন্বেষা আকারে অতিক্ষুদ্র হলেও এটি প্রতিদিন ১৬ বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ঘুরে যাবে দিনে চার থেকে পাঁচবার। এটি মহাকাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণসহ বাংলাদেশের জলাভূমি পর্যবেক্ষণ, নগরায়ণ ও কৃষি পরিস্থিতির উন্নতমানের ছবি পাঠাতে পারবে। আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কিত তথ্যও দিতে পারবে। ফলে এসব ক্ষেত্রে কর্মরত গবেষকরা এখন বিদেশি স্যাটেলাইটের গৃহীত ছবির পাশাপাশি ব্র্যাক অন্বেষার ছবিও ব্যবহার করতে পারবেন। প্রযুক্তি বিকাশের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বাংলাদেশের জন্য এক বড় অর্জন। পাশাপাশি দেশের প্রতি ভালোবাসার অনন্য নজির হিসেবে স্যাটেলাইটে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরাও যে প্রতিভায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে নেই, তা আবারও প্রমাণ করলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক তিন ছাত্র। উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রযুক্তির সহায়তা পেলে বাংলাদেশের তরুণরা যে অনেক কিছুই করতে পারে, অতীতেও তার অনেক প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে তা আরো জোরদার হবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন হাতছানি দিচ্ছে। নানা দিক থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এখন প্রয়োজন সেই স্বপ্নগুলোর যথাযথ লালন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র তৈরি করা। উন্নত দেশগুলোর গবেষণাগারে গিয়ে বাংলাদেশের তরুণরা যেসব কাজ করতে পারে, সে রকম গবেষণার সুযোগ বাংলাদেশেও তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গড়ে তুলতে তরুণদের স্বপ্ন দেখার ও তা বাস্তবায়নের উপযুক্ত জায়গা হিসেবে। জাপানের উন্নত গবেষণাগারে বসে বাংলাদেশের যে তিন তরুণ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছেন, মহাকাশ গবেষণার এক নতুন ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁদের অনেক অনেক অভিনন্দন। আমরা আশা করি, আগামী দিনগুলোতে এমন অসংখ্য তরুণের হাত ধরে প্রিয় বাংলাদেশ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। নতুন উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ।


মন্তব্য