kalerkantho


নিঝুম দ্বীপে নৈরাজ্য

পরিবেশ ধ্বংসকারীদের ছাড় দেবেন না

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞ সারা দেশেই কমবেশি চলে, তবে নিঝুম দ্বীপের নৈরাজ্য সম্ভবত নজিরবিহীন। অব্যবস্থাপনারও আদর্শ উদাহরণ হতে পারে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম এই স্পটটি।

অবাধে বৃক্ষ নিধন, ভূমি দখল, হরিণ হত্যা—কোনো অনাচারই বাদ নেই। একাধিক প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অপকর্মে প্রমাণ হয়, দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা যখন স্থানীয় চেয়ারম্যান মেহরাজউদ্দিন ও তাঁর লোকজনকে দখলবাজির জন্য অভিযুক্ত করছেন, তখন চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠ’কে বলছেন, বন বিভাগের লোকজনের পরোক্ষ মদদ ছাড়া দখল অসম্ভব। উপজেলা পরিষদ থেকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে বন দখল, বনের জায়গায় স্থানীয়দের বসতভিটা তৈরিতে সহযোগিতা ও গাছ কাটার জন্য মেহরাজউদ্দিনসহ তাঁর অনেক সহযোগীর নাম রয়েছে। এর পরও তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? একইভাবে মেহরাজউদ্দিন বন বিভাগের লোকজনেরও জড়িত থাকার যে অভিযোগ করেছেন, তাও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৭ সালে নিঝুম দ্বীপকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০১২ সালে আনা হয় সংরক্ষিত বনভূমির আওতায়।   উদ্যোগটি প্রশংসনীয় হলেও সংরক্ষণে নেওয়া ব্যবস্থাগুলো পর্যাপ্ত নয়। হাতে গোনা কিছু বনরক্ষী হাজার হাজার দখলকারী সামাল দেবে কী করে! বন কর্মকর্তারা লোকবল কম থাকার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন।

তাঁরা সেখানে এতটাই অসহায় ও দুর্বল যে প্রতিবাদ করতে গেলে মারধরের শিকার হতে হয়।  

নিঝুম দ্বীপ আমাদের জাতীয় সম্পদ। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও এর রয়েছে উজ্জ্বল সম্ভাবনা। কিন্তু যাতায়াতব্যবস্থা উন্নয়নে তেমন নজর দেওয়া হয়নি। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেও নিঝুম দ্বীপের নিশ্চয়তা বিধান করা জরুরি। সত্তরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়সহ বড় অনেক ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ সবুজ বেষ্টনী দক্ষিণ উপকূলকে যথাসম্ভব নিরাপত্তা দিয়েছে। ৮১ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত দ্বীপের বন উজাড় হয়ে গেলে ওই অঞ্চলটি আরো অরক্ষিত হয়ে পড়বে। সংরক্ষিত বন ঘোষণার পরও জনগণকে ঘরদোর তোলার সুযোগ করে দেওয়ার মতো স্ববিরোধিতা থেকেও আমাদের সরে আসতে হবে।

বন বিভাগের জমি রক্ষায় কোস্ট গার্ড, র‌্যাব, নৌ পুলিশের সমন্বয়ে একটি ক্যাম্প করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। এ রকম একটি ক্যাম্প না থাকা থেকেও স্পষ্ট হচ্ছে অসামান্য এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় আমরা এখনো যথেষ্ট আন্তরিক হতে পারিনি। এর মধ্যেই নিঝুম দ্বীপের অপূরণীয় অনেক ক্ষতি আমরা করে ফেলেছি। আর একটি বৃক্ষও যেন কাটা না পড়ে, যেন হত্যার শিকার না হয় একটিও হরিণ।


মন্তব্য