kalerkantho


বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বেগ

আমানতের সুদের হার বাড়ানো হোক

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০




বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বেগ

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা বাড়লেও সে হারে গ্রাহক টানতে ব্যর্থ হয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেও সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের অন্ত নেই।

সব ধরনের আমানতের ওপর থেকে সুদের হার কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে আমানত তুলে নিয়ে যাচ্ছে গ্রাহকরা। এসব আমানতের কিছু যাচ্ছে সঞ্চয়পত্রে। কিছু আমানত অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের সুদের হার কমানো হচ্ছে না। ফলে বিনিয়োগও গতি পাচ্ছে না। আবার অধিকাংশ ব্যাংকই ব্যবসা বাড়ানোর নামে এমন সব ঋণ দিয়ে রেখেছে, যার অধিকাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। এমনকি নতুন অনেক ব্যাংকও এমন অনেক ঋণ দিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

মানুষের সঞ্চয়প্রবণতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি অর্জনই ব্যাংকগুলোর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশে ব্যাংকের এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের ওপর সুদ বা মুনাফার হার ঋণের সুদ বা মুনাফার হারের চেয়ে দ্রুত হ্রাস পেয়ে অনেক ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

আমানতের ওপর সুদ বা মুনাফার হার অত্যধিক হ্রাস পাওয়া সঞ্চয়প্রবণতাকে ক্ষুণ্ন করছে এবং সঞ্চয়ের বদলে অপচয়মূলক ভোগ ও অন্যান্য অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়াচ্ছে—এমন কথা বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০১২ সালে আমানতের ওপর সুদ ছিল সাড়ে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। এখন কমতে কমতে ৬ শতাংশর নিচে নেমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশঙ্কা, এই অবস্থা চলতে থাকলে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের দায়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হতে পারে। সে কারণেই সুদের হার না কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাহলে ব্যাংকগুলো ব্যবসা করবে কিভাবে, এমন প্রশ্ন এখন সামনে এসে যেতে পারে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পেশাগত দক্ষতা ও উত্কর্ষের পরিচয় দিতে হবে। গ্রাহক সৃষ্টি বা লক্ষ্য পূরণের জন্য যত্রতত্র ঋণ দিলে তা একসময় বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন—এরই মধ্যে বেশ কিছু ব্যাংক দুর্বল ঋণ দিয়ে বিপদে পড়েছে। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংকে পড়ে থাকলেও নতুন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে। আবার ভুল ও দুর্বল ঋণ ব্যাংকগুলোকে নতুন সংকটে ফেলবে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এখন থেকে তাদের খেলাপি ঋণ আদায়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করতে পারে।  

আজকের দিনে ব্যাংকিং খাতে প্রগতিশীলতার যে ধারা চালু হয়েছে, তা থেকে পিছিয়ে আসা যাবে না। অসুস্থ প্রতিযোগিতা নয়, সুস্থধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নিতে হবে।


মন্তব্য