kalerkantho

বিদেশে অর্থপাচার

যত শক্তিশালী হোক ছাড় দেওয়া যাবে না

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নাজুক নজরদারির সুযোগে দেশের অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি বিদেশে অর্থপাচার করছে। অপরাধটি পুরনো হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের অভাবে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

পানামার ‘মোসাক ফনসেকা’র তথ্যে ৫৫ বাংলাদেশির নাম আসার সুযোগে এবার তাদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা, পাচারের অর্থে কেনা সম্পত্তি জব্দ ও পাচারকারীকে শাস্তির আওতায় আনার প্রশংসনীয় উদ্যোগও নিয়েছে এনবিআর। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ছয় লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৯ ডলার পাচারকারী চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অন্যদের বিরুদ্ধেও মামলা হবে।

এনবিআর সূত্র বলছে, অর্থপাচারকারীরা দেশের পরিচিত সম্পদশালী। তাদের অনেকেরই সরকারের নীতিনির্ধারক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা-আমলাসহ এ দেশের নামিদামি ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। শাস্তি এড়াতে পাচারকারীরা যেন এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিতে না পারে। জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কাজ যারা করে তারা নিঃসন্দেহে দেশের শত্রু। যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, শুধু ৫৫ জন নয়, পাচারকারীদের প্রকৃত সংখ্যা হবে আরো অনেক বেশি।

তাদের শনাক্ত করার কার্যকর পন্থাও বের করতে হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, একজন পাচারকারী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়া কেন পাবে? একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা কিংবা রাজনীতিবিদ নীতিগতভাবেই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। কোনো অজুহাতেই মৌলিক এই জায়গাটি থেকে সরে যাওয়ার কোনো অধিকার তাঁরা রাখেন না। শুধু অর্থপাচার কেন, সমাজের নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গেই প্রভাবশালীদের যোগসূত্র থাকার কথা আমরা জানি। এমনকি রাজস্ব ফাঁকি ধরার জন্য যারা নিয়োজিত তাদেরও কেউ কেউ ফাঁকিবাজদের মদদ দিচ্ছে। যে পুলিশের কাজ অপরাধী ধরা, তাদেরই কোনো কোনো সদস্য অপরাধীদের সঙ্গে সখ্য তৈরিই করছে না, নিজেরা অপরাধে জড়াচ্ছেও। এ ধরনের দুষ্ট বন্ধন জাতির অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে—এ কথা আমরা যত দ্রত অনুধাবন করব ততই মঙ্গল।

এনবিআর সূত্র জানায়, সমাজের প্রভাবশালী এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময় অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে এনবিআর ক্ষমতাবানদের তদবির, সুপারিশ আর হুমকি-ধমকির মুখে অনেক সময়ই মাঝপথে তদন্ত থামিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল বলে এবার এনবিআর চেয়ারম্যান তদন্ত শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দুজনই তাঁকে বলেছেন, অপরাধী যেই হোক, ছাড় দেওয়া যাবে না। অর্থপাচারবিরোধী এই লড়াইয়ে এনবিআরকে শুধু অনড় নয়, সৎও  থাকতে হবে।


মন্তব্য