kalerkantho


নতুন নির্বাচন কমিশন

প্রত্যাখ্যানের রাজনীতি থেকে সরে আসুন

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নতুন নির্বাচন কমিশন

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গঠিত হলো নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সার্চ কমিটির দেওয়া ১০ জনের তালিকা থেকে রাষ্ট্রপতি একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছেন।

কমিশনে এবারই প্রথম একজন নারী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ পেয়েছেন। নতুন কমিশন প্রসঙ্গে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে ইতিবাচক সাড়াই পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগও নতুন ইসিকে স্বাগত জানিয়েছে। বিএনপি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও ধারণা করা হচ্ছে, নতুন ইসি নিয়ে তারা কিছুটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াই জানাবে। আর ছোট দলগুলোও নিজ নিজ মেরুকরণ অনুযায়ী বড় দলগুলোর অনুরূপ প্রতিক্রিয়া দিতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা বাংলাদেশে প্রায় অসম্ভব একটি বিষয়। এক দল যদি কাউকে ‘হ্যাঁ’ বলে আরেক দল তাঁকে না বলবেই—এটা যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তার মধ্যেও এবার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথমে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন অধ্যাপক এবং দুটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দুই প্রধানকে নিয়ে একটি সার্চ কমিটি গঠিত হয়েছিল। সার্চ কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাঁচটি করে নাম চেয়েছিল। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ২৭টি দল নামের তালিকা দিয়েছিল। এর বাইরে সার্চ কমিটি দুই দফায় বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। সবার মতামতের ভিত্তিতেই সার্চ কমিটি ১০ জনের একটি নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেয়। রাষ্ট্রপতি সেই তালিকা থেকে পাঁচজনকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত নামও রয়েছে। এর চেয়ে সুন্দর প্রক্রিয়া আর কীই-বা হতে পারত। প্রাথমিকভাবে যত দূর জানা যায়, নতুন ইসিতে যাঁদের নেওয়া হয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের অতীতে সুনামের সঙ্গে কার্যসম্পাদনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নতুন সিইসি কে এম নুরুল হুদা একজন সাবেক সচিব, দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ২০০৬ সালে তিনি অবসরে যান। কমিশনারদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পের প্রথম পরিচালক ছিলেন। সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম কর্মজীবনে নির্বাচন কমিশনে যুগ্ম সচিবের দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানম। আমাদের বিশ্বাস, তাঁরা প্রত্যেকেই যোগ্য এবং তাঁরা তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে দেশের নির্বাচন কমিশনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

বিতর্কের কোনো শেষ নেই। যেকোনো বিষয় নিয়েই বিতর্ক করা যায়। কিন্তু দেশের কল্যাণে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে ঐকমত্যেরও প্রয়োজন আছে। আমরা আশা করি, বিতর্ক ও বর্জনের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে সবাই এগিয়ে আসবে।


মন্তব্য