kalerkantho


যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতন

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শিক্ষাসহ নানা সূচকে দেশ এগিয়ে আছে। নারীর অগ্রযাত্রায় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। তার পরও সমাজ থেকে যৌতুক নামের ব্যাধিটি দূর করা যাচ্ছে না। গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একাধিক খবরে উঠে এসেছে যৌতুকের নামে নিষ্ঠুরতার চিত্র। মাগুরার শ্রীপুরে দাবি করা টাকা না পেয়ে গৃহবধূ সীমা বিশ্বাসকে মারধর করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামী সুব্রত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীর বাউফলে গৃহবধূ আমেনা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী জুয়েল সরদার ও পরিবারের লোকজন যৌতুকের দাবিতে আমেনাকে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে এক মাস আটকে রেখে নির্যাতনের পর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করেছে। বগুড়ার শিবগঞ্জের গৃহবধূ মনিকা শারমিন হাসিকে রামদা দিয়ে কুপিয়েছেন তাঁর যৌতুকলোভী স্বামী। হাসি এখন বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যৌতুকের লোভ যে মানুষকে কতটা পশুতে পরিণত করে এসব ঘটনা তারই প্রমাণ।

দেশে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। যৌতুকের জন্য নারীকে কতভাবে যে নিগ্রহের শিকার হতে হয় তার হিসাব নেই। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয় অনেক নারী।  

বাংলাদেশে যৌতুক আইনত নিষিদ্ধ, দণ্ডনীয় অপরাধ। তার পরও যেন তা প্রথায় পরিণত হয়েছে। সমাজের বিত্তবানদের জন্য যৌতুক কোনো সমস্যা না হলেও নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য তা বড় সমস্যা। বিদ্যমান আইনটি সময়োপযোগী করার জন্য সম্প্রতি ‘যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৭’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খসড়ায় বলা আছে, যৌতুকের জন্য কোনো নারীকে মারাত্মক জখম করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য পৃথক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। খসড়াটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য যাবে। এরপর আবার মন্ত্রিসভায় এলে তা চূড়ান্ত হবে। শুধু আইন থাকলেই হবে না, প্রয়োজন তার যথাযথ ব্যবহার। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আইনের প্রয়োগ নেই। আবার গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ আইনটি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত নয়। প্রচার ও প্রয়োগের দুর্বলতার কারণেও সমাজ থেকে যৌতুক নামের অভিশাপ দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতন চলছে। প্রাণ দিতে হচ্ছে অসহায় নারীদের।

সমাজ থেকে যৌতুক প্রথা বিলোপ করতে হবে। যৌতুকের জন্য নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে সমাজ যৌতুকের অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে।

 


মন্তব্য