kalerkantho


আবারও মামলা প্রত্যাহার

অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা কাম্য নয়

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আবারও মামলা প্রত্যাহার

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার নামে শত শত মামলা, এমনকি খুনের মামলাও প্রত্যাহার করে নেওয়ার এক ধরনের রেওয়াজ তৈরি হয়েছে, যা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। সাধারণত ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে এ পদ্ধতিতে মামলা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটে। তখন শত শত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। জেলখানা থেকে গণহারে আসামিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সংখ্যাও নেহাত কম নয়। চার্জশিটভুক্ত খুনের আসামিকেও এভাবে ছেড়ে দেওয়ার নজির রয়েছে। মামলা প্রত্যাহারের এসব ঘটনার সমালোচনা হলেও শাসকদল কখনো তা আমলে নেয় না। এরই নজির দেখা যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগে। গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, মন্ত্রণালয় একটি বাছাই কমিটি গঠন করেছে। তারা খতিয়ে দেখবে কোন কোন মামলা প্রত্যাহার করা যায়। জানা যায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় এবারও দুই শতাধিক মামলা প্রত্যাহার করা হতে পারে, যার মধ্যে অর্ধশতাধিক খুনের মামলাও রয়েছে।

আছে ধর্ষণ, ঘুষ লেনদেনসহ অনেক ফৌজদারি অপরাধের মামলাও। যদি তা-ই হয়, তাহলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে কিভাবে? আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার টানা আট বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। এখনো রাজনৈতিক বা দলীয় বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার করার কি যৌক্তিকতা আছে?

দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। একের পর এক খুনের ঘটনার খবর পত্রিকায় আসছে। ঘুষ, দুর্নীতি, ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। এ পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে পারছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অথচ তারা খুনি, ধর্ষক, দুর্নীতিবাজদের রেহাই দেওয়ার এমন উদ্যোগ কেন নিতে যাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এভাবে যদি খুনিদের বাঁচিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলে, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে কিভাবে? বরং অপরাধীরাই আরো উৎসাহিত হবে। ২০০১-০৬ মেয়াদে চারদলীয় জোট সরকারের সময় ১১ হাজারেরও বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, যার মধ্যে বহু খুনের মামলাও ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম পাঁচ বছরে বহু খুনের মামলাসহ মোট সাত হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদেও অনেক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আবারও এমন উদ্যোগ কেন? স্বাভাবিক নিয়মে মামলাগুলো আদালতে যাবে। বিচারক দেখবেন কোনটি প্রকৃত এবং কোনটি হয়রানিমূলক—সেভাবেই মামলাগুলোর ফয়সালা হওয়া উচিত।

আমরা ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ নিয়ে অনেক কথা বলি। কিন্তু সেই ‘সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো করি না। অনেক ক্ষেত্রে তার উল্টো কাজই করি। মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগকে তারই দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য করা যায়। মামলা প্রত্যাহারের বর্তমান উদ্যোগকে আমরা কোনোক্রমেই ন্যায়সংগত বলে মনে করি না। আমরা এই আত্মবিনাশী সংস্কৃতির অবসান চাই। আমরা চাই, দেশ আইনের শাসন বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাক। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।


মন্তব্য