kalerkantho


নকল সারের ব্যবসায় এসপি

কার কাছে প্রতিকার চাইবে মানুষ?

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নকল সারের ব্যবসায় এসপি

পুলিশ কর্মকর্তা বটে! পুলিশের বেতন নেন। পুলিশের পোশাক পরেন।

পুলিশের যত সুযোগ-সুবিধা আছে, সবই নেন। কিন্তু পুলিশের জন্য নির্ধারিত কাজ করেন না, করেন তার উল্টোটা। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বদলে আইন ভঙ্গ করেন। জনস্বার্থ রক্ষার বদলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করেন। পরিস্থিতি যদি এমন হয়, তাহলে দেশ চলবে কিভাবে? এমনই কিছু অভিযোগ উঠেছে পুলিশের একজন এসপির বিরুদ্ধে। গতকালের কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, পুলিশের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) ঢাকা কমান্ড্যান্ট পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান নামে-বেনামে দেশব্যাপী নকল টিএসপি সারের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঢাকার সাভার ও গোপালগঞ্জে তাঁর মালিকানাধীন নকল সার তৈরির চারটি কারখানা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো থেকে প্রতিদিন হাজার টনের বেশি নকল সার উৎপাদিত হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর সেসব ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন হাজার হাজার দরিদ্র কৃষক। এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এবং অদৃশ্য শক্তির বলে তিনি বরাবরই পার পেয়ে গেছেন। ফলে তাঁর অনিয়মের মাত্রা যে ক্রমেই ফুলে-ফেঁপে উঠছে, বর্তমান অনিয়মের অভিযোগ তারই প্রমাণ।

কৃষক খেয়ে না খেয়ে কিংবা ধারকর্জ করেও জমিতে সার প্রয়োগ করেন একটু ভালো ফলনের আশায়। নকল সারে তা হয় না। উপরন্তু যেসব ক্ষতিকর উপাদান নকল সারে ব্যবহার করা হয়, তা জমিরও ক্ষতি করে। ফসল হারিয়ে, জমির উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে তখন কৃষক সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হন। কৃষক বা ব্যবহারকারীর দুর্দশার কথা বিবেচনা না করে যারা ভেজাল-নকল পণ্য তৈরি করছে, তাদের কি মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা যায়? পুলিশের কাজ হচ্ছে, মানুষরূপী এই অমানুষদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা। এখন পুলিশ কর্মকর্তাই যদি নকল-ভেজালের ব্যবসায় নেমে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

একজন পুলিশ কর্মকর্তা চাকরিরত অবস্থায় বৈধভাবেও ব্যবসা করতে পারার কথা নয়। সেখানে এই পুলিশ কর্মকর্তা বছরের পর বছর ব্যবসার নামে এই জঘন্য কাজ কিভাবে করে আসছেন? পুলিশ বিভাগ কি তাঁর অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানে না, নাকি জেনেও না জানার ভান করে যাচ্ছে? গোয়েন্দারা কী করেছে? দুই জেলায় চারটি নকল সার তৈরির কারখানার কোনোটিই তাদের নজরে এলো না কেন? তাঁর মালিকানায় থাকা বিশাল বিশাল বাগানবাড়িতে কী হয়? এত ধন-সম্পত্তির মালিক তিনি কিভাবে হলেন? এমন অনেক প্রশ্নই এখন সামনে চলে আসছে। পুলিশ বিভাগকে দ্রুত বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখতে হবে। বিষয়টি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়ায় তদন্তের ফলাফল মানুষকে জানাতে হবে। তার ভিত্তিতে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হয়তো ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারেন। অভিযোগে ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া গেলেও এই পুলিশ কর্মকর্তাকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।


মন্তব্য