kalerkantho


সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রয়াণ

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চলে গেলেন দেশের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের এক অগ্রণী সৈনিক। দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। ব্যতিক্রমধর্মী প্রখর যুক্তিবোধ ছিল তাঁর বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বর্ণাঢ্য এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কর্মজীবনের শুরু থেকে যুক্ত ছিলেন আইন পেশার সঙ্গে। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন আলোচনার শীর্ষে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করেছিল। কিন্তু তিনি ছিলেন ন্যাপ থেকে বিজয়ী একমাত্র প্রার্থী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন।

পাঁচ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনেও তিনি ন্যাপের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করেছিলেন একতা পার্টি ও গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী হিসেবে। ছোট দলের বড় নেতা, এই ছিল তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। অষ্টম, নবম ও দশম সংসদের নির্বাচিত সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য। পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে অনুকরণীয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের একজন তিনি। এলাকার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা অসাধারণ বলেই মানুষের কাছে তাঁর ব্যক্তি ইমেজ ছিল ঈর্ষণীয়। চার দশকেরও বেশি সময় তিনি সুনামগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গণতন্ত্রের সংগ্রামী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ব্যক্তিজীবনেও অসাম্প্রদায়িকতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যু আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আজ দেশে যখন সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে চাইছে, তখন তাঁর মতো তীক্ষধী রাজনীতিকের প্রয়োজন ছিল। দেশের ক্রান্তিলগ্নে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করার মতো মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সেই ধারার রাজনীতিবিদ, যাঁদের চিন্তা ও চেতনায় কেবল মানুষের মঙ্গলচিন্তা ঘুরেফিরে এসেছে। আমরা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাই। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তাঁর প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন অনুভব করবে।  

 


মন্তব্য