kalerkantho


আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বে প্রাণহানি

অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি চাই

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জেলা-উপজেলায়, এমনকি ইউনিয়ন ও গ্রামপর্যায়ে পারস্পরিক সংঘর্ষে লিপ্ত আওয়ামী লীগের একাধিক গ্রুপ। বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সমকালের স্থানীয় প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল গুলিবিদ্ধ হন।

শুক্রবার ঢাকায় আনার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর নানি। অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের মতো একটি গণতান্ত্রিক দলের এমন প্রাণঘাতী অন্তর্দ্বন্দ্ব একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। আগামী দুই বছরের মধ্যে আরো একটি সাধারণ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঠিক এই সময়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে পরস্পরবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর কোন্দল দলের জন্য কোনো শুভ বার্তা বহন করে না।

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা সব সময় বেশি। ২০০৯ সাল থেকে সরকারে থাকা মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটির ভেতরের কোন্দল চাপা রাখা যাচ্ছে না। এমন কোনো জেলা কিংবা উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে আওয়ামী লীগের একাধিক উপদল নেই। উপদলীয় কোন্দলে পারস্পরিক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়নি এমন কোনো জেলাও সম্ভবত পাওয়া যাবে না। গত বছরের শেষার্ধে জাতীয় সম্মেলনের দলীয় নেতৃত্বের আহ্বান তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আদৌ উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। এ অবস্থা চলতে থাকলে জনমানসে দলটি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। পরবর্তী নির্বাচনেও তা প্রভাব ফেলবে।

বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের সময় গুলি করার কথা সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন শাহজাদপুরের পৌর মেয়র। স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেছেন, মেয়রের গুলিতেই সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল মারা গেছেন। শিমুলের মৃত্যুর পর পৌর মেয়র ও তাঁর দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মেয়র পলাতক থাকলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শাহজাদপুর ও কুষ্টিয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এই দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির বিধান করতে পারলে আওয়ামী লীগ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।


মন্তব্য