kalerkantho


তেলের বাজার অস্থির

যথেচ্ছ দাম বাড়ানো বন্ধ করুন

অন্যান্য   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, এই অজুহাতে কোনো অগ্রিম ঘোষণা ছাড়াই ব্র্যান্ডভেদে লিটারপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভোজ্য তেলের দাম। বাজারে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়াও পড়েছে।

দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা ও নজরদারির ব্যাপারে ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি এখনো উপেক্ষিত। ক্রেতা অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ে না। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাইরের দেশের মডেল অনুসরণ করে ২০১২ সালে বাংলাদেশে প্রতিযোগিতা আইন করা হয়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত বিধিমালা না থাকায় আইনটি কার্যকর নয়। এমনিতেই আমাদের দেশে আইন অমান্য করার প্রবণতা প্রবল। আইনের অনুপস্থিতিতে সুযোগসন্ধানী মহল কী করতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, এই অজুহাতে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও তা প্রমাণ করছে।

আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বাজারে অনেক পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করে। সে ক্ষেত্রে বাইরের বাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে তার প্রভাব পড়বেই।

যেমনটি ভোজ্য তেলের বাজারে পড়েছে। কিন্তু দাম বাড়ানোর আগে ঘোষণা দিতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিও নিতে হবে। বাংলাদেশের বাজারে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রিত হয় ব্যবসায়ীদের ইচ্ছায়। এখানে যেকোনো উত্সবের আগে কোনো কারণ ছাড়াই বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় বাজার স্থিতিশীল বলা হয়ে থাকে। তার অর্থ এই নয় যে বাজারে পণ্যের দাম কমেছে। স্থিতিশীল মানে দাম বেড়ে যাওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির হয়ে থাকা। দ্রব্যমূল্য সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে, বাংলাদেশে তা যেন অলীক কল্পনা। ভোজ্য তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব এরই মধ্যে বাজারে পড়েছে। কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা এখানে নিরুপায়। একশ্রেণির ব্যবসায়ীর মুনাফার লোভ বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।

বিকল্প কোনো বাজার থাকলে ভোক্তাদের কাছে বিকল্প থাকত। বাংলাদেশে তা গড়ে ওঠেনি। সাধারণ ক্রেতাদের বিপদ এখানেই। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা রোধ করতে হলে বিকল্প বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। বাংলাদেশে তার কোনো উদ্যোগ নেই। একদিকে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল, অন্যদিকে বিকল্প বাজার না থাকায় ভেঙে পড়েছে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন টিসিবিকে কেন অকার্যকর করে রাখা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়। এই প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে বাজারে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকত। সরকারের বিদ্যমান অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে বিকল্প বাজারব্যবস্থা কিভাবে কাজে লাগানো যায়, তা ভাবতে হবে। অন্যথায় বাজার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।


মন্তব্য