kalerkantho


মোবাইল ফোনে প্রতারণা

নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মোবাইল ফোনে প্রতারণা

মোবাইল ফোন এখন হাতে হাতে। স্মার্টফোনের ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।

তথ্য-প্রযুক্তির এই বিস্তার মানুষের জীবনযাত্রাকেও অনেক সহজ করছে। কিন্তু আলোর নিচে থাকে অন্ধকার। তেমনি মোবাইল ফোন জনজীবনকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বাড়ছে মোবাইল ফোনকেন্দ্রিক অপরাধ। বাড়ছে বিড়ম্বনা। প্রতিদিনই প্রতারিত হচ্ছে বহু মানুষ। লোভের ফাঁদ পেতে প্রতারকরা হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা-পয়সা। বিশেষ কৌশলে ফোন নম্বর নকল করে সাধারণ ব্যবহারকারীকে ঠেলে দিচ্ছে বিপদের মুখে। বিকৃত ছবি কিংবা ভুয়া তথ্য প্রচার করে কেড়ে নিচ্ছে অনেকের সুনাম। হুমকির পর হুমকি দিয়ে কেড়ে নিচ্ছে রাতের ঘুম। অথচ অপরাধীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অপরাধীদের ঠিকমতো শনাক্তই করা যাচ্ছে না।

পৃথিবী এগোচ্ছে, প্রযুক্তি এগোচ্ছে। এই অগ্রগতি চলতেই থাকবে। ফলে মানবজীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বাড়তেই থাকবে, একইভাবে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধও বাড়বে। এটাই স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে যাঁরা সমাজের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন, সেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকেও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এসব অপরাধ দমন করতে হবে। সেখানেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আমাদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতাকে আমরা একই গতিতে এগিয়ে নিতে পারিনি। ফল যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। অপরাধীরা মন্ত্রী-আমলাদের নম্বর ব্যবহার করেও অপরাধ করছে।

বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য এটি করা অপরিহার্য। কিন্তু একই সঙ্গে ডিজিটাল অপরাধ দমনেও সরকারকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে। ব্যবহারকারীদেরও এসব ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। তাদের সচেতন করার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কোনো প্রতারক অন্য কারো ফোন নম্বর ব্যবহার করে হুমকি দিলে কিংবা অন্যায়ভাবে অর্থ দাবি করলে, বিষয়টির সত্যাসত্য যাচাই করতে হবে। নিজে না বুঝলে যাঁরা বোঝেন তাঁদের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে। তা না করে বিকাশ কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবি করা অর্থ পরিশোধ করে দিলে তাতে অপরাধীরা আরো উত্সাহিত হবে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নম্বর নকল করে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিংবা তাঁদের কারো নম্বর নকল করে ঠিকাদার বা প্রকল্প কর্মকর্তার কাছে টাকা চাওয়া হয়। কেউ কেউ আবার বিকাশে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে টাকা পরিশোধও করেন। তাঁদের দুর্বলতা কোথায়? কেন তাঁরা যাচাই না করে টাকা দেন?

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। প্রয়োজনীয় উপকরণ তাদের দিতে হবে। এসব বাহিনীতে প্রযুক্তিতে দক্ষ লোকজন নিয়োগ দিতে হবে এবং প্রতিনিয়ত আসা নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে কেউ অপরাধে জড়িত কি না তা নজরদারিতে রাখতে হবে। আমরা চাই না, কল্যাণের জন্য যে প্রযুক্তি তা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলুক।


মন্তব্য