kalerkantho


মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের বৈধতা

শ্রমবাজার সম্প্রসারণে আরো উদ্যোগী হোন

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের বৈধতা

মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী আরো প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি সেখানে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপের মধ্য দিয়ে এ সিদ্ধান্ত এসেছে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় সুখবর। এই কর্মীরা সেখানে নানাভাবে অবস্থান করলেও বৈধতা না থাকায় ভালো কাজের সুযোগ পাচ্ছিল না। পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে। অথচ সামান্য ভালো জীবন পাওয়ার আশায় প্রচুর টাকা-পয়সা খরচ করে তারা সেখানে গিয়েছে এবং অবস্থান করছে। এর আগেও কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে সেখানে আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী বৈধতা পেয়েছে। শুধু মালয়েশিয়া নয়, একই প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবে প্রায় আট লাখ কর্মী বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আরো কয়েকটি দেশে বেশ কিছু বাংলাদেশি কর্মী বৈধতা লাভ করে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের একটি বড় উৎস প্রবাসী আয়। সেই উৎস আমাদের রক্ষা করতেই হবে। তা ছাড়া শুধু প্রবাসী আয়ের জন্য নয়, দেশের ক্রমবর্ধমান তরুণসমাজের কর্মসংস্থানের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিদেশি শ্রমবাজারের সর্বোচ্চ সুযোগ নেওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও এ ব্যাপারে তিনি যে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার। একই আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে আমাদের দূতাবাস ও মিশনগুলোকেও। দুঃখজনক হলেও সত্য, অতীতে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অনেক দেশই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। মালয়েশিয়ায়ও বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে সেখানে নতুন করে কর্মী নেওয়া শুরু হয়েছে। কর্মী নেওয়া শুরু হয়েছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যথাযথ উপায়ে মানসম্মত কর্মী পাঠানোর দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে। নানা ধরনের কাজের উপযোগী করে কর্মীদের তৈরি করতে হবে। বিদেশে তারা যেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট না করে সে জন্য তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করেই বিদেশে পাঠাতে হবে। কিছু অতিলোভী রিক্রুটিং এজেন্সি যেন কর্মীদের প্রতারিত করতে না পারে কিংবা মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে কাউকে অবৈধভাবে বিদেশে না পাঠাতে পারে সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। মালয়েশিয়ায় যারা অবৈধভাবে গিয়েছিল তারা কিভাবে, কাদের মাধ্যমে সেখানে গিয়েছিল, তা জেনে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশের আর কোনো শ্রমবাজার অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা এখনই নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। সরকারকে এ ক্ষেত্রে আরো মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজারগুলোর নিত্যদিনের গতি-প্রকৃতি অনুসন্ধান করে তার ভিত্তিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে।


মন্তব্য