kalerkantho

26th march banner

জাতিসংঘের প্রত্যাশিত উদ্যোগ

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করুন

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জাতিসংঘের প্রত্যাশিত উদ্যোগ

যুগের পর যুগ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। নাগরিকত্ব বাতিল করে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন বাহিনী যেমন তাদের ওপর নির্যাতন করছে, তেমনি স্থানীয় অন্য ধর্মাবলম্বীরাও রোহিঙ্গা নিধনে শরিক হচ্ছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, খুন, ধর্ষণ, লুটতরাজসহ এমন কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ নেই, যা করা হচ্ছে না। এই নির্যাতনের উদ্দেশ্য মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন কিংবা বিতাড়িত করা। সেই প্রচেষ্টায় তারা কিছুটা সফলও হয়েছে। কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানকে তারা বাংলাদেশে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে বহু রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে গিয়েও আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যুগের পর যুগ চালিয়ে যাওয়া এই অমানবিক নির্যাতন বিশ্ববাসীকেও ক্ষুব্ধ করছে। তারই আলোকে জাতিসংঘ সম্প্রতি কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত মিয়ানমারে ১২ দিন অবস্থান করে রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জাতিসংঘের আনান কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের অবস্থা দেখেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। চার দিনের সফর শেষে গতকাল ফিরে যাওয়ার আগে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা ড. গাসান সালামে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলেই কেবল এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।

মিয়ানমারে দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসান ঘটেছে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ও গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসেবে পরিচিত অং সান সু চির দল এখন ক্ষমতায়। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আশা করেছিল। কিন্তু মিয়ানমারের বর্তমান সরকারও সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং বর্তমান সরকারের সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর জঘন্যতম হামলার ঘটনা ঘটছে। নতুন করে দলে দলে রোহিঙ্গারা এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে এবং শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ অবস্থায় গত মাসে মিয়ানমার একজন বিশেষ দূতকে ঢাকা পাঠিয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মঙ্গলবার কক্সবাজারের উদ্বাস্তু শিবির পরিদর্শন করে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটও বলেছেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এলেও তাদের শিকড় সেখানে, তাই সমস্যার সমাধানও সেখানে অর্থাৎ মিয়ানমারের হাতে। কিন্তু মিয়ানমার কিছুই শুনছে না।

তিন দশকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। গত অক্টোবরে নতুন করে দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আরো ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এখনো প্রতিদিন নির্যাতিত রোহিঙ্গারা আসছেই। ফলে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিয়ে ব্যাপক চাপের মধ্যে আছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হলেও মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না। এ অবস্থায় বাংলাদেশ জাতিসংঘের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। আমরা আশা করি, জাতিসংঘ ও বৃহৎ শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপে দ্রুত এ সমস্যার একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাধান আসবে।


মন্তব্য