kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাড়ছে ইয়াবার সর্বনাশা থাবা

দ্রুত প্রতিরোধ করুন

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মাদক শুধু দেশের তরুণসমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে না, এর সঙ্গে যুক্ত নানা অপরাধ সমাজের শান্তি ও স্থিতি নষ্ট করছে। নেশার অর্থ জোগাতে তরুণরা ক্রমেই অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

মাদকের সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারও বাড়ছে। এমনকি জঙ্গিরাও অর্থ সংগ্রহের জন্য মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। অথচ মাদক নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উদ্যোগই চোখে পড়ছে না।

বর্তমানে ভয়ংকর মাদক ইয়াবা যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই ইয়াবা এমন এক মাদক, যা সেবনকারীকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে দেয়। দয়া, মায়া, মানবতা কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। নিজের মা-বাবাসহ নিকটজনদের হত্যা করতেও এদের হাত কাঁপে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো প্রায়ই লাখ লাখ ইয়াবার চালান আটক করে। গত দুই মাসে কেবল রাজধানীতেই ১১ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছে পুলিশ। কিন্তু এর বাহকরা ধরা পড়লেও মূল হোতারা আড়ালেই থেকে যায়। মামলার তদন্তে দেখা যায় গাফিলতি। অর্থ দিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত বিকৃত করার অভিযোগও কম নয়। ফলাফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ইয়াবার বিস্তার ঘটেই চলেছে।

অপরাধের শাস্তি না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। অপরাধ ক্রমেই বাড়তে থাকে, যেমন বাড়ছে মাদক ব্যবসা। সারা দেশে হাজার হাজার লোক এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় নতুন করেও অনেকে এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এদের প্রত্যেককে ধরা কখনো সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে সঠিক ছিল, যারা ধরা পড়ছে দ্রুত তাদের বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা। এ রকম কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলে মাদক ব্যবসা নিরুৎসাহিত হতো। আর তাতে মাদকের বিস্তারও কমে আসত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। দীর্ঘ সময় ধরে মাদকের মামলা চলতে থাকে। দুর্বল তদন্তের কারণে মূল হোতারা যেমন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, তেমনি যারা ধরা পড়ে তাদের অপরাধও প্রমাণিত হয় না। অনেকেই খালাস পেয়ে যায় অথবা জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। তদন্তের এই গাফিলতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ জন্য তদন্ত কর্মকর্তাদের কাজের জবাবদিহি বাড়াতে হবে। অর্থের বিনিময়ে তদন্তে গাফিলতি বা বিকৃতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের সবচেয়ে কঠিন শাস্তির বিধান করতে হবে। মূল হোতারা যাতে ক্ষমতার প্রভাব খাটাতে না পারে সে জন্য সরকার ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে এবং তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। মাদকসেবীদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশের তরুণসমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।

 


মন্তব্য