kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বন্ড সুবিধায় অর্থপাচার

প্রতিরোধ করুন

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বন্ড সুবিধায় অর্থপাচার

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হওয়ায় তৈরি পোশাকশিল্পকে সরকার নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া তেমনি একটি সুবিধা হচ্ছে বিনা শুল্কে কাঁচামাল আমদানি।

উদ্দেশ্য রপ্তানিকে উৎসাহিত করা। দেশবাসীও তা মেনে নিয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো কী করছে? এনবিআরের টাস্কফোর্স এসব প্রতিষ্ঠানের কারখানা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস, ব্যাংক, বন্দরসহ আমদানিসংশ্লিষ্ট তথ্যাদি পর্যালোচনা করে যেসব তথ্য পেয়েছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। প্রায় শতভাগ কারখানাই আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সুনির্দিষ্টভাবে ৫৬২টি প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে, যেগুলো বিভিন্ন সময়ে এক হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোট চার হাজার ৫৮টি প্রতিষ্ঠান এনবিআরের বন্ড সুবিধা বা শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুবিধা পেয়ে থাকে। তবে এই সুবিধা ভোগ করার জন্য কিছু শর্ত প্রযোজ্য থাকে। এর মধ্যে আছে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনে থাকতে হবে, বিনা শুল্কে আমদানি করা কাঁচামালের পুরোটাই কারখানায় ব্যবহার করতে হবে এবং অন্যত্র বিক্রি করা যাবে না, কোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য দেওয়া যাবে না এবং হিসাব অনুযায়ী রপ্তানি পণ্যের রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী বেশির ভাগ কারখানাই এসব শর্ত পূরণ করছে না। তার পরও কি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ড সুবিধা দেওয়া ঠিক হবে?

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই আমদানিতে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য দেখায় এবং অতিরিক্ত অর্থপাচার করে। এ জন্য তারা কেউ কেউ যোগসাজশ করে বিদেশে নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের দিয়ে প্রতিষ্ঠান খুলেছে এবং সেসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্য আমদানি করছে। উদ্বৃত্ত অর্থ পরে নিজেরা হাতিয়ে নিচ্ছে। জানা যায়, অনেকে যে পরিমাণ রপ্তানি করে তার চেয়ে বেশি আমদানি করে। এটা কী করে সম্ভব? অনেকে রপ্তানি পণ্যের কম মূল্য দেখিয়েও মুদ্রা পাচার করছে। এ রকম অনিয়ম কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। একদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে গিয়ে রাষ্ট্র প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। তাই বন্ড সুবিধার পুরো বিষয়টি নিয়েই নতুন করে ভাবা জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান গার্মেন্ট পণ্যের নাম করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় অন্যান্য পণ্য আমদানি করে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট খাতের অন্য ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে। এমনও জানা যায়, বন্ড সুবিধার আওতায় এমন অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্য আমদানি করছে, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। এর আগে এনবিআরের টাস্কফোর্সেরই আরেক প্রতিবেদনে এমন দুই হাজার ২৩৫টি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যারা কয়েক বছরে চার হাজার ২৩৪ কোটি টাকা পাচার করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বছরের পর বছর এমন অনিয়ম কিভাবে চলে আসছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। দেরিতে হলেও অনিয়মকারীদের ধরার ব্যাপারে এনবিআর যে উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। আমরা চাই, দ্রুত এদের আইনের আওতায় আনা হোক, বন্ড সুবিধা বাতিল করা হোক এবং পাচার করা অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক।


মন্তব্য