kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অর্থদাতাদের নাম প্রকাশ

অর্থায়ন বন্ধ হলে জঙ্গি তৎপরতা কমবে

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশে যেভাবে জঙ্গিবাদ বিস্তৃত হয়েছে তাতে আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারের সদস্যরাও জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

পুলিশের প্রাপ্ত তথ্যে আরো চমকে উঠতে হয়। নব্য জেএমবির অর্থের উৎস সন্ধানে নেমে পুলিশ যে তিনজনের সন্ধান পেয়েছে, তাঁরা সবাই অবস্থাপন্ন। এঁদের একজন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, যিনি তাঁর পেনশনের সব অর্থ দিয়েছিলেন নব্য জেএমবির তহবিলে। একইভাবে সাবেক ব্যাংকার ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের ফ্ল্যাট বিক্রির টাকাসহ নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সব টাকা নব্য জেএমবিকে দিয়েছেন। একইভাবে খিলগাঁওয়ের নিরুদ্দেশ হওয়া চিকিৎসকও টাকা দিয়েছেন এই সংগঠনকে। এর পাশাপাশি বিদেশ থেকেও টাকা আসছে নব্য জেএমবির কাছে। বিদেশ থেকে আসছে অস্ত্রও। এই টাকা ও অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে যে হামলাগুলো হয়েছে তা নজিরবিহীন। এর আগে এ ধরনের ঘটনা এখানে ঘটেনি। ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর শোলাকিয়ার ঈদগাহ ময়দানেও হামলার চেষ্টা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তা প্রতিহত করা গেলেও জঙ্গিদের প্রস্তুতি থেমে নেই। রাজধানী ও এর আশপাশে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় প্রমাণ হয়, জঙ্গিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলা যায়নি। জঙ্গিবাদের এই বিস্তারের নেপথ্যে অর্থের জোগান একটি বড় বিষয় হিসেবে কাজ করছে। কয়েক মাস আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি ও এক ডজনেরও বেশি বেসরকারি সংস্থা জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত। এই অর্থই যে বাংলাদেশের আদর্শের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাড়ি থেকে খালি হাতে নিখোঁজ হওয়া তরুণের বিদেশে চলে যাওয়া কিভাবে সম্ভব হয়? হামলায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক অস্ত্রের জোগান কেত্থেকে আসে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই জঙ্গি অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা সম্ভব। পুলিশের দেওয়া তথ্য বলছে, নব্য জেএমবির তহবিলের টাকায় চলছে তাদের অপারেশন। এর সঙ্গে আছে জড়িতদের নিয়মিত বেতন-ভাতা। নব্য জেএমবির সদস্যদের লেখাপড়ার কাজেও এই তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হয়। কোটি কোটি টাকার তহবিল গড়ে তুলে জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তহবিল গড়ে তুলতে ইদানীং ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো কাজেও নেমেছে জেএমবি সদস্যরা।

সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এখন জঙ্গি অর্থায়নে যুক্ত ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। অর্থায়নের এই উৎস বন্ধ করা গেলে জঙ্গি তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আমরা আশা করি, জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে সম্ভব সব ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।   


মন্তব্য