kalerkantho


বিশ্বব্যাংকের সমর্থন

উপকূল রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ নিন

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিশ্বব্যাংকের সমর্থন

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বাংলাদেশের দ্রুত এগিয়ে চলার শুধু প্রশংসাই করেননি কিংবা বর্ধিত ঋণ সহায়তার ঘোষণাই দেননি, তিনি যেভাবে বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং বা চিত্রিত করেছেন সেটিও বাংলাদেশের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। কোনো দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসা, দেশটির সঙ্গে অপরাপর দেশ বা সংস্থার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডিং, অবস্থান, মর্যাদা ইত্যাদি একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ ক্রমেই তেমন অবস্থান তৈরি করছে, বিশ্বব্যাংকপ্রধানের বক্তব্যে তারই স্বীকৃতি মিলেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন এবং তার সঙ্গে যুক্ত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছেন। তেমনি একটি পরামর্শ হচ্ছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতি আরো বেশি মনোযোগী হওয়া।

আমরা জানি, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বর মাসটি ছিল পৃথিবীর জানা ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ মাস। ১৯৫১ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যকার গড় তাপমাত্রার তুলনায় সেপ্টেম্বরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১ ডিগ্রি বেশি। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতাও। এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে না পারলে বাংলাদেশের উপকূলের দুই কোটিরও বেশি মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়বে। আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। বর্তমানে দেশে উন্নয়নের যে গতি তৈরি হয়েছে তাকে টেকসই করতে হলে উপকূল রক্ষার উদ্যোগ নিতেই হবে এবং তা করতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তৃতায় বিষয়টির প্রতি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও গুরুত্বের কথা উঠে এসেছে। বিশ্ব বসতি দিবসে প্রদত্ত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন উপকূলীয় সবুজবেষ্টনী তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা। নতুন করে কয়েক শ বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে। পটুয়াখালীতে নির্মাণাধীন পায়রা সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ পায়রাকেন্দ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচিও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় চাষাবাদের বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে। গবেষণালব্ধ কিছু প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ গবেষণায় আরো জোর দিতে হবে। ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস সিডর ও আইলায় উপকূল রক্ষা বাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এখনো বাঁধের কিছু কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থেকে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বাঁধ আরো উঁচু ও মজবুত করে পুনরায় নির্মাণ করতে হবে। উপকূলীয় দরিদ্র লোকজনের ঘরবাড়ি এতটাই নাজুক যে সামান্য ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কাও সেগুলো সহ্য করতে পারে না। তাদের জন্য মানসম্মত বাড়িঘর তৈরির কর্মসূচি নিতে হবে। উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক হারে পশু পালন করা হয়। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারির পরও অনেকে গবাদি পশু ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চায় না। তাই একই সঙ্গে জলোচ্ছ্বাস থেকে গবাদি পশু রক্ষারও উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, উপকূলের দুই কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়লে তা এই ছোট্ট দেশের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করবে তাতে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।


মন্তব্য